বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ–ভারত যৌথ কার্যদলের বৈঠক আজ শুরু, যা থাকছে বাণিজ্য আলোচনায়

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সম্প্রতি দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক করা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার মূল লক্ষ্য নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নিতে ঢাকা ত্যাগ করে সেখানে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে বিগত কিছুদিন নিয়মিত এই বৈঠক সময়মতো আয়োজন করা সম্ভব হয়নি, যা বর্তমান আলোচনার মাধ্যমে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

বাণিজ্যিক আলোচনার প্রধান এজেন্ডাগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থলবন্দরগুলোর বিদ্যমান বাধা দূর করা এবং পাটপণ্যের ওপর ভারতের আরোপ করা নতুন শুল্ক পুনর্বিবেচনা করা। বিগত বছরগুলোতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও টানাপোড়েন তৈরি হওয়ায় স্থলপথে পণ্যের চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ভারত বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য স্থলপথে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থলবন্দরের রপ্তানি পরিসংখ্যানে। এছাড়া বাংলাদেশও নির্দিষ্ট কিছু ভারতীয় সুতা আমদানির ক্ষেত্রে স্থলপথে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, যা উভয় দেশের ব্যবসায়িক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বৈঠকে সম্প্রতি ভারতীয় পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যের ওপর নতুন করে নির্ধারিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্কের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হয়েছে। ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় এর আগে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, টুইন, হেসিয়ান কাপড় এবং পাটের বস্তার ওপর সংশোধিত শুল্ক কার্যকর করেছে। এ ছাড়া পিইটি ফিল্ম আমদানির ওপরও বাড়তি শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই শুল্ক জটিলতা নিরসন করে পারস্পরিক বাণিজ্যের পথ সুগম করাই বর্তমান বৈঠকের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

উল্লেখ্য, এর আগে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ বিরতির পর এই নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে বাণিজ্য সম্পর্কের বরফ গলানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিকবার বসে তাদের মতামত ও সুপারিশ গ্রহণ করেছে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে স্থলবন্দরের বিধিনিষেধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, অশুল্ক বাধা অপসারণ এবং অতীতে বাতিল হওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পুনরায় চালুর জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, দুই দেশের এই আলোচনার ফলস্বরূপ পারস্পরিক বাণিজ্য খাতের বিদ্যমান জটিলতা কেটে যাবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page