
অর্থনীতি ডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত লোকসানি চিনিকলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের মাধ্যমে বায়ো প্রোডাক্ট বা জৈব পণ্য তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরির জন্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে হবে। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. আবুল কালাম এবং এতে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে আগের বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের হার এবং বাস্তবায়নে যেসব সমস্যা রয়েছে তা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বিএসটিআইয়ের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের কার্যালয় সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর আধুনিকায়ন এবং সামগ্রিক শিল্প খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করতে কাজের গতি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয় এবং অর্থ বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের বা বিসিআইসির অধীন সার কারখানাগুলোর কার্যক্রম। কারখানাগুলোর বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতি, উৎপাদন সক্ষমতা, বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ এবং গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়। কারখানা পরিচালনায় যেসব জটিলতা রয়েছে তা দূর করে সার উৎপাদনে খরচ কমানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়। সার কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিদ্যমান উৎপাদন ক্ষমতার শতভাগ ব্যবহার করার প্রতি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার জনবল সংকট দূর করার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অধীন কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পদে কতটি শূন্য পদ রয়েছে এবং তার বিপরীতে কোন কোন প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী বৈঠকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে বিভিন্ন কলকারখানার বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের চলমান উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতিও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সরকারি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে কমিটির সভাপতি ছাড়াও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চলমান প্রকল্পগুলোর সুফল দ্রুত জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে মতামত দেন। পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা এবং অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ও বাণিজ্যিকভাবে সফল করার মাধ্যমেই দেশের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব বলে বৈঠকে মত প্রকাশ করা হয়।