বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

চুয়েট-সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ: দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থবিরতা

Reporter Name

শিক্ষা ডেস্ক: উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে চরম স্থবিরতা বিরাজ করছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলন ও কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে অন্তত ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং নতুন কোনো পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের সেশনজট তৈরির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত ২১ সেপ্টেম্বর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সেদিন রাতেই বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পরদিন থেকে কঠোর আন্দোলনে নামেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদও কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে। নতুন উপাচার্য অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের কারণে তিনি এখনো ক্যাম্পাসে সশরীরে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

এদিকে একই ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেও, যেখানে প্রশাসনিক কার্যক্রম কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করার দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। কলেজটির তিনটি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের লিখিত পরীক্ষা শেষ হলেও নির্ধারিত ল্যাব পরীক্ষাগুলো স্থগিত হয়ে গেছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও প্রশাসনিক নানা জটিলতায় শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই সেশনজটের শিকার হয়ে আসছেন। এই সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে কলেজটিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে পুরোপুরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা অথবা স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান না আসায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুধু ক্যাম্পাসের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর তীব্রতা ছড়িয়ে পড়েছে বাইরেও। চুয়েটের শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে তাঁদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করলেও তা থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট সুরাহা পাওয়া যায়নি। উভয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁদের এই দাবিগুলোর গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন না। ফলে দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page