
আসন্ন পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই দেশের ইউনিয়ন পরিষদ বা ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার জোরালো পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই লক্ষ্যে আগামী বছর জানুয়ারি মাসে দুই ধাপ এবং ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এক ধাপ মিলিয়ে মোট তিন ধাপে প্রায় দুই হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত রমজান মাস ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ব্যস্ততা এড়াতেই এই কম সময়ে নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতি ধাপে সাতশ থেকে আটশ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সামগ্রিক সময়সূচি কয়েক দিন পেছানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভায় সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে সরকারের সঙ্গে পর্যাপ্ত যোগাযোগের অভাবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে নতুন করে সময় নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিভিন্ন জটিলতা ও পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনা করে নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়, যার অংশ হিসেবে জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে একটি বড় অংশের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে অথবা শিগগিরই শেষ হতে চলেছে, যা স্থানীয় সরকার আইনের বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, রমজানের আগেই আনুমানিক দুই হাজার ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রথম ধাপের সম্ভাব্য তারিখ সামান্য পরিবর্তন হলেও মূল পরিকল্পনা অপরিবর্তিত থাকবে। এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের জন্য প্রচলিত সময়ের চেয়ে কিছুটা কমিয়ে ৩৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা এবং প্রার্থীদের প্রচারণার সময় ১৫ দিন করার কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সহিংসতা এড়াতে পুরো একটি বিভাগে একসঙ্গে ভোট গ্রহণের একটি প্রস্তাবও কমিশনের টেবিলে রয়েছে, প্রয়োজনে পরবর্তী ধাপে সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই সময়ে বা এর মধ্যবর্তী সময়ে এক ধাপে পৌরসভা নির্বাচন আয়োজন করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউপি ও পৌরসভার পর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন চায় কোনো ধরনের হানাহানি বা প্রাণহানি ছাড়াই একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিশ্চিত করতে।
এদিকে সম্প্রতি নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভোটার হিসেবে নারীদের উপস্থিতি ব্যাপক হলেও প্রার্থী হিসেবে তাদের অংশগ্রহণ সন্তোষজনক নয়, যা দূর করার ক্ষেত্রে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মানসিকতা বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এবং এতে ভোটারদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।