মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া হতে হবে সহজ, নির্ভুল

Reporter Name

ডেস্ক রিপোর্ট: একজন নাগরিকের আইনি পরিচয়ের মূল ভিত্তি হলো জন্মনিবন্ধন, যার সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পাসপোর্টসহ অন্তত ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ সেবা ও অধিকার সরাসরি যুক্ত রয়েছে। এছাড়া উত্তরাধিকার সম্পত্তি রক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্ভুল মৃত্যুনিবন্ধন থাকাও অত্যন্ত জরুরি। সঠিক জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য এই নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত করা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে পুরো নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও সহজলভ্য করা সময়ের দাবি।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত সুশাসন’ প্রতিপাদ্য বিষয়টিকে সামনে রেখে নানা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, নিখুঁত জন্মনিবন্ধন না থাকলে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কতটি স্কুল বা হাসপাতাল প্রয়োজন কিংবা কত মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা দরকার, তা সরকারের পক্ষে নির্ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে নির্ভুল মৃত্যুনিবন্ধনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে রোগের প্রাদুর্ভাব ও ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান জানান, ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এই ব্যবস্থাকে প্রায় দেড় শ বছরেও পুরোপুরি নির্ভুল করা সম্ভব হয়নি, যা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যা এবং নিবন্ধিত ডেটাবেজের সংখ্যার মধ্যে ফারাক রয়েছে, যা বর্তমান প্রক্রিয়ার কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অন্যদিকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, মূলত দ্বৈত নিবন্ধনের কারণে শুমারির সঙ্গে নিবন্ধিত সংখ্যার এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। জনসংখ্যার সঠিক উপাত্ত পেতে তিনি নাগরিকদের সময়মতো সঠিক তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করার ব্যাপারে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তারা ডিজিটাল সুশাসন নিশ্চিত করতে ডেটাবেজের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোড শহীদুল হাসান জানান, সরকারের ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ালিট’ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য জন্মনিবন্ধন নির্ভুল হওয়া জরুরি এবং এর সঙ্গে জড়িতদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। আইসিটি সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া উল্লেখ করেন যে, কেবল প্রযুক্তিনির্ভর সিস্টেম তৈরি করলেই হবে না, বরং তা সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি উপযোগী ও সহজতর হতে হবে। এছাড়া রেজিস্ট্রার জেনারেল আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জনবল ও লজিস্টিক সংকট দূর করার পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে উদ্যোক্তা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন, যা নাগরিকদের পাসপোর্ট ও এনআইডির মতো সেবা প্রাপ্তি সহজ করবে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিরাও সঠিক নিবন্ধনের গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান মিখাল ক্রেজা সাধারণ মানুষের ডিজিটাল সেবায় প্রবেশাধিকার সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেন যাতে পরনির্ভরশীলতা কমে যায়। ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ জানান, সঠিক জন্মনিবন্ধনের ওপর ভিত্তি করেই শিশুদের জন্য বিদ্যালয় স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা ও টিকার চাহিদা নির্ধারণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে নির্ভুল জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত সেবা প্রদানে বিশেষ অবদান রাখায় দেশের বেশ কয়েকটি কার্যালয় ও চারজন কর্মকর্তাকে সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page