মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

ছারপোকার উপদ্রবে ইংল্যান্ডে বন্ধ হলো ট্রেন চলাচল

Reporter Name

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ ইংল্যান্ডে সম্প্রতি ছারপোকার নজিরবিহীন উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এই ছোট্ট পতঙ্গের কামড় ও দৌরাত্ম্যের কারণে বেশ কিছু ট্রেনের চলাচল শিডিউল থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। দ্য টেলিগ্রাফের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইস্ট সাসেক্সের হেস্টিংস এলাকার একটি প্রধান ট্রেন কেয়ার ডিপোতে প্রথম এই পোকার উপস্থিতি ধরা পড়ে। সেখান থেকে লন্ডন এবং কেন্ট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতেও দ্রুত ছারপোকা ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেনকর্মীরা আশঙ্কা করছেন যে পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে জনদুর্ভোগ আরও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

পরিস্থিতি এতটাই খারাপ রূপ নেয় যে, ট্রেন চালকেরা নিজেদের কক্ষ এবং ব্যক্তিগত ব্যাগের আশপাশে ছারপোকা ঘুরে বেড়াতে দেখে ট্রেন চালাতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। রেলকর্মীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে তারা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা শুরুতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয়নি। এমনকি এই পোকাভর্তি একটি ট্রেনকে রেলকর্মীরা বিদ্রূপ করে বেডবাগ এক্সপ্রেস বা ছারপোকা ট্রেন হিসেবে নামকরণ করেন। ঝুঁকি এড়াতে ওই ট্রেনের কয়েকটি কামরা তালাবন্ধ করে রাখা হলেও ট্রেনটি ঠিকই বিভিন্ন স্টেশনের মধ্যে কয়েক চক্কর চলাচল করে।

চরম অসন্তোষ ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় গত সপ্তাহে ওয়েস্ট মেরিনা ডিপোতে জরুরি ভিত্তিতে কীটপতঙ্গ দমনকারী দল বা পেস্ট কন্ট্রোল টিম ডাকতে হয়। চালকেরা দাবি করেছিলেন যে ছারপোকা থেকে বাঁচতে তাদের ফুল-বডি প্রোটেক্টিভ স্যুট বা বিশেষ সুরক্ষামূলক পোশাক দেওয়া হোক। কিন্তু পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম না থাকায় শেষ পর্যন্ত একাধিক ট্রেনের নির্ধারিত যাত্রা বাতিল করা হয়। অভ্যন্তরীণ কিছু নথি থেকে জানা যায়, ট্রেনগুলোতে ছারপোকার বিষয়টি সাধারণ কর্মীদের কাছে পরিষ্কারভাবে গোপন রাখা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের অসন্তোষের জন্ম দেয়।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ট্রেন ও জনবহুল স্থানে ছারপোকার উপদ্রব বৃদ্ধির ইতিহাস রয়েছে। কোভিডের মহামারি কেটে যাওয়ার পর পর্যটক ও যাত্রীদের চলাচল হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই সমস্যা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছারপোকা সাধারণত উষ্ণ ও অন্ধকার জায়গায় লুকিয়ে থাকে এবং রাতের বেলা মানুষের রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। এর কামড়ে শরীরে তীব্র চুলকানি ও অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়। এর আগে লন্ডনের একটি গণমাধ্যম কার্যালয়েও একই ধরনের পতঙ্গের উপদ্রব দেখা দেওয়ায় ভবনটি পরিষ্কার করতে হয়েছিল।

রেলওয়ে ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল ও উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করেছে। তারা জানিয়েছে, কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তারা রেল কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সাউথইস্টার্ন রেলওয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাদের কয়েকটি ট্রেনে এই সমস্যা পাওয়া গেলেও ইতোমধ্যে সেগুলোকে জীবাণুমুক্ত করে আবার সেবায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কোম্পানির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চালকের কক্ষেই মূলত ছারপোকার উপস্থিতি সীমাবদ্ধ ছিল এবং যাত্রীদের বসার স্থান সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page