রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
জনসংখ্যা সংকট ঠেকাতে সিঙ্গাপুরে সরকারি ডেটিং অ্যাপ চালু শাহজালালে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ৮০টি সোনার বার যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ইতিহাস গড়ে ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে আবিষ্কৃত ভাইরাসের ৯৯ শতাংশই বিজ্ঞানীদের অজানা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, হামলা হলে বিধ্বংসী জবাব দেবে ইরান সুপার কম্পিউটারের ১১০ বছরের কাজ মাত্র ১৯ সেকেন্ডে করল কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রায় সব ব্র্যান্ডের বিড়ালের খাবারেই বিষ, আছে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানও: গবেষণা বারবিকিউ পার্টিতে অ্যালকোহল–মিশ্রিত পানীয় ‘ঝাক্কাস’ পান, এক যুবকের মৃত্যু, চারজন হাসপাতালে ৩০ ডলারে কেনা চিত্রকর্ম বিক্রি হলো সাড়ে ১৩ লাখ ডলারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ছোট: ৪০টি তথ্য

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে আবিষ্কৃত ভাইরাসের ৯৯ শতাংশই বিজ্ঞানীদের অজানা

Reporter Name

পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রের তলদেশ নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের কৌতূহল ও গবেষণার অংশ হিসেবে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে থাকা পলিম্যাটালিক নোডিউলের পলিমাটিতে প্রচুর পরিমাণে জীবাণুর অস্তিত্ব রয়েছে। গভীর সমুদ্রের এই বিশেষ পরিবেশটি সাধারণ স্থলভাগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে মানুষের ধারণা অত্যন্ত সীমিত। সম্প্রতি পরিচালিত এক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় এই রহস্যময় অঞ্চলের গভীরে লুকিয়ে থাকা অজানা এক জগত উন্মোচিত হয়েছে।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও অণুজীব নিয়ে কাজ করা গবেষক দল ওই অঞ্চল থেকে সংগৃহীত নমুনার বিশদ জিনগত বিশ্লেষণ সম্পন্ন করেছেন। এই গবেষণার অংশ হিসেবে তারা প্রায় এগারো হাজার সাতশ চুয়াল্লিশটি স্বতন্ত্র ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। অত্যন্ত চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই বিশাল সংখ্যক ভাইরাসের প্রায় শতভাগ বা নিরানব্বই শতাংশই বিজ্ঞানীদের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত ও নতুন। এই আবিষ্কার অণুজীববিজ্ঞান এবং গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গভীর সমুদ্রের চরম প্রতিকূল পরিবেশ, তীব্র চাপ এবং সূর্যালোকহীনতার মতো চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সেখানে কীভাবে এই ভাইরাসগুলো টিকে রয়েছে, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এই ভাইরাসগুলোর অধিকাংশই সামুদ্রিক ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য অণুজীবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমুদ্রের তলদেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং পুষ্টিচক্র সচল রাখতে এই অণুজীব ও ভাইরাসগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে এদের সঠিক কার্যপদ্ধতি এবং অন্যান্য জীবের ওপর এদের প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার কেবল সমুদ্রের তলদেশ সম্পর্কে আমাদের জানাশোনাই সমৃদ্ধ করছে না, বরং পৃথিবীর আদিম ইতিহাসের অনেক অজানা অধ্যায় উন্মোচন করতে সাহায্য করবে। পলিম্যাটালিক নোডিউল উত্তোলনের বাণিজ্যিক পরিকল্পনা চলাকালীন এই ধরনের অণুজীবের উপস্থিতি পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে এখন থেকেই ভাবতে শুরু করেছেন গবেষকরা। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এবং গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষায় এই নতুন তথ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page