
শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে শিক্ষার্থীদের চাকরির জন্য কোনো সনদ বা ডিপ্লোমা দেওয়া হবে না। সম্প্রতি রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেডের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘জিপে’র আনুষ্ঠানিক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হবে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী না করে বরং আত্মনির্ভরশীল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস তার দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে গ্রামীণ ব্যাংক এবং গ্রামীণফোনের শুরুর দিকের নানা চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে বিদ্যুৎহীন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও জেনারেটর চালিয়ে কম্পিউটার বসানো সম্ভব হয়েছিল। এছাড়া গ্রামীণফোনের যাত্রার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, গ্রামের দরিদ্র নারীদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সে সময় অনেকে অবাস্তব বলে মনে করলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল প্রমাণিত হয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।
নতুন এই ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘জিপে’ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, এর মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষকে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি ও ভয় থেকে মুক্তি দেওয়া। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে প্রযুক্তির সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বড়লোকদের জন্য নানা আয়োজন থাকলেও গরিব মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। জিপে একটি সামাজিক ব্যবসা হিসেবে পরিচালিত হবে এবং এর থেকে অর্জিত কোনো লভ্যাংশ ব্যক্তিগতভাবে কেউ গ্রহণ করবেন না বলে তিনি জানান।
সামাজিক ব্যবসার ধারণার ব্যাখ্যা দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, গ্রামীণ কাঠামোর সব ব্যবসাই এই নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেখানে মালিকপক্ষ ব্যক্তিগত মুনাফা না নিয়ে ব্যবসার সম্প্রসারণ ও সামাজিক সমস্যার সমাধানে তা পুনর্বিনিয়োগ করে। গ্রামীণ আমেরিকার সাফল্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারে কিভাবে শতভাগ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, এটি তারই প্রমাণ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, আর্থিক খাতের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং শেষ পর্যায়ে চার নারী ঋণগ্রহীতার হাতে ‘টাকা পে’ কার্ড তুলে দেওয়া হয়।