
বর্তমান সময়ে তরুণ ও কিশোরদের ফ্যাশনে হাফপ্যান্ট বা খাটো পোশাকের ব্যবহার ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। খেলাধুলা, ব্যায়ামাগার কিংবা দৈনন্দিন চলাফেরায় অনেকেই এমন শর্টস পরিধান করেন যা হাঁটু থেকে বেশ ওপরে থাকে এবং ঊরুর বড় অংশ উন্মুক্ত রাখে। বাহ্যিকভাবে এটি সাধারণ ক্যাজুয়াল পোশাক বা ফ্যাশন মনে হলেও, একজন মুসলিমের জীবনযাপনে শরিয়তের বিধান মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে জনসম্মুখে খাটো পোশাক পরে চলাফেরা করার বিষয়টি নিয়ে ইসলামি গবেষক ও ফকিহদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
ইসলামি শরিয়তে শালীনতা রক্ষা এবং শরীরের আবশ্যকীয় অংশ বা সতর ঢেকে রাখাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শরিয়তের পরিভাষায় সতরের সীমানা নির্দিষ্ট করা আছে এবং তা লঙ্ঘন করা নিষিদ্ধ। অধিকাংশ ইসলামি আইনবিদের মতে, পুরুষের জন্য নাভি থেকে শুরু করে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত অংশ অন্যদের সামনে ঢেকে রাখা আবশ্যক। তাই হাঁটু ও ঊরু সতরের অংশ হওয়ায় জনসম্মুখে তা অনাবৃত করে রাখা সম্পূর্ণরূপে নাজায়েজ ও হারাম হিসেবে গণ্য হয়।
পোশাকের বৈধতা মূলত এর গঠন ও দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে থাকে। কোনো হাফপ্যান্ট যদি এত খাটো হয় যে ঊরু বা হাঁটুর অংশ উন্মুক্ত থাকে, তবে তা পরে জনসম্মুখে যাওয়া ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে পোশাকটি যদি যথেষ্ট লম্বা হয় অর্থাৎ নাভি থেকে হাঁটু এবং হাঁটুর নিচ পর্যন্ত ঢেকে রাখে এবং তা যদি আঁটসাঁট না হয়ে ঢিলেঢালা হয়, তবে তা পরিধান করায় কোনো বাধা নেই। খেলাধুলা বা শরীরচর্চার সময়ও এই নিয়ম প্রযোজ্য এবং সতরের বিধান শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই।
প্রকাশ্যে সতর উন্মুক্ত রেখে চলাফেরা করার কারণে সমাজে লজ্জাশীলতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া নামাজ আদায় কিংবা অজু করার ক্ষেত্রেও সতর ঢাকার বিষয়টি অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে পালন করতে হয়, কারণ খাটো পোশাকে সতর খুলে গেলে নামাজ বাতিল হয়ে যেতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, হাফপ্যান্ট পরা কোনো মূল সমস্যা নয়, বরং শরিয়ত নির্ধারিত সতর সঠিকভাবে ঢাকা পড়ছে কি না সেটাই মূল বিবেচ্য বিষয়।