
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে পুরো সময় একাদশের বাইরে রাখা নিয়ে পর্তুগাল শিবিরে তীব্র অসন্তোষ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচটিতে মাঠে নামার সুযোগ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে দলের অনুশীলন শিবির ছেড়ে চলে যান তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। অনুমতি ছাড়াই জাতীয় দলের কার্যক্রম থেকে এভাবে সরে দাঁড়ানোর কারণে এখন বড় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তিনি। ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিজ্ঞ ফুটবলারকে প্রায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।
সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় ডেনমার্কের বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিল পর্তুগাল দল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে হুট করে দলের ক্যাম্প ছেড়ে সুইডেনের মালমোর একটি হোটেলে চলে যান রোনালদো। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যথাযথ কারণ ছাড়া জাতীয় দলের অনুশীলন বা ম্যাচ বয়কট করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এই নিয়ম ভঙ্গের কারণে আইনগতভাবে তাকে আর্থিক জরিমানা ও নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের নিয়মমাফিক ধারা অনুযায়ী, জাতীয় দলের কার্যক্রম থেকে অননুমোদিতভাবে দূরে থাকলে একজন পেশাদার খেলোয়াড়কে ৫০০ থেকে ১০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। এছাড়া পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষিদ্ধ করার সুযোগও রয়েছে। এর আগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিতে কোচ হোর্হে জেজুস পুরো সময় পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডকে সাইডবেঞ্চে বসিয়ে রাখেন, যা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তাঁর জন্য অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা ছিল।
ঘটনার পর চারদিকে নানা গুঞ্জন শুরু হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে একটি বার্তা দিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তিনি জানান, কোচের সংবাদ সম্মেলন ও ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পরই তিনি এই ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং উপযুক্ত সময়ে এর পেছনের মূল কারণ দেশবাসীকে জানাবেন। এদিকে রোনালদোবিহীন মাঠে নেমেও নরওয়ের বিপক্ষে দুই গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় পর্তুগাল, যেখানে জয়সূচক গোলগুলো করেন জোয়াও ফেলিক্স ও গনসালো রামোস। আগামী দিনে এই শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় পর্তুগিজ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।