
দৈনিক নবচেতনা পত্রিকার ফটোসাংবাদিক বাদল দাস রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না এবং পরিবার ও সহকর্মীরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তাঁর কোনো হদিস পাননি। পটুয়াখালী সদর উপজেলার নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা বাসু দেব দাসের ছেলে বাদল দাস দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত কারণে ঢাকায় বসবাস করে আসছেন। তিনি রাজধানীর গুলিস্তানের শিশু কল্যাণ পরিষদ ভবন নামক একটি আবাসিক ভবনে নিজের কক্ষে অবস্থান করতেন এবং সেখান থেকেই সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত ফটোসাংবাদিকতা পরিচালনা করতেন।
নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পরদিন তাঁর এক বন্ধু ও সহকর্মী পল্টন মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এই সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং পুলিশ বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। সহকর্মীরা জানিয়েছেন যে বাদল দাসের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাঁর কক্ষের ভেতরেই তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। ফোনটি কক্ষে ফেলে যাওয়ার বিষয়টি এই নিখোঁজের ঘটনাকে আরও বেশি রহস্যজনক করে তুলেছে বলে মনে করছেন তাঁর সহকর্মীরা।
ঘটনার তদন্তে নতুন মোড় নেয় যখন একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে দাবি করা হয় যে ফটোসাংবাদিক বাদল দাস ডিবি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। এই তথ্য পাওয়ার পরপরই তাঁর রুমমেট শেখ বাবু মতিঝিল থানা এবং মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা ডিবি কার্যালয় থেকে তাঁকে আটকের কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। এমনকি ডিবি পরিচয়ে ফোন করা নম্বরটিতে পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটির সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সহকর্মীদের মাধ্যমে নিহতের স্ত্রী এই আকস্মিক ঘটনার খবর পান এবং তখন থেকেই পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বাদল দাসের সন্ধান পেতে তাঁর পরিবার এবং সহকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোরালো হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের কাছেও অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া গেলে অবিলম্বে নিকটস্থ থানা অথবা তাঁর রুমমেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।