বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
হামলা–ভাঙচুর–দখলের ঘটনায় বিব্রত সরকার জেলা-উপজেলায় চালু হচ্ছে চাকরির নতুন ব্যবস্থা, যেভাবে পাবেন সব তথ্য ইয়ামাল ম্যাজিকে ক্রোয়েশিয়াকে ধসিয়ে দিল স্পেন রাশিয়ায় পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬ হৃৎপিণ্ডের প্রতীক এল কোথা থেকে, দেখতে এটি হৃৎপিণ্ডের মতো নয় কেন উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পত্রিকা: ‘অপরাধে জড়ালে দলীয় পরিচয় দেখা হবে না’ আড়ায় ওড়না ঝুলিয়ে শিশু সন্তানকে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা, ভিডিও ভাইরালের পর মা আটক হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি সংগীতশিল্পীকে ৭৪ দোররার সাজা বহাল আইওএস ২৭ আপডেট করেই বিপাকে আইফোন ব্যবহারকারীরা!

আড়ায় ওড়না ঝুলিয়ে শিশু সন্তানকে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা, ভিডিও ভাইরালের পর মা আটক

Reporter Name

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় নিজ শিশু সন্তানকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম বিথী আক্তার এবং তিনি নগরকান্দা উপজেলার রাধানগর গ্রামের মালদ্বীপ প্রবাসী আব্বাস আলীর স্ত্রী। ঘটনাটির ৫৯ সেকেন্ডের একটি দৃশ্য সম্প্রতি ফেসবুকের বিভিন্ন পাতায় ভাইরাল হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের ঝড় ওঠে এবং পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই নারী নিজেই মুঠোফোনে এই অমানবিক ঘটনার দৃশ্য ধারণ করছিলেন এবং শিশুটির আকুতি সত্ত্বেও তাকে ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওর বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, টিনশেড ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে ওড়না ঝুলিয়ে চৌকির ওপর দাঁড়িয়ে শিশুটির গলায় ফাঁসের চেষ্টা করেন তার মা বিথী আক্তার। সে সময় অবুঝ শিশুটি হাত-পা ছুড়ে চিৎকার করতে থাকে এবং কান্নায় ভেঙে পড়ে বলতে থাকে আমাকে বাঁধিও না, ছেড়ে দাও। শিশুটির এমন আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ঘরের দরজায় সজোড়ে ধাক্কা দিতে শুরু করেন। স্থানীয় লোকজনের তীব্র শোরগোল ও প্রতিবাদের মুখে একপর্যায়ে ওই নারী শিশুটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন, যা ভিডিওর শেষভাগে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে ঘটনার অনুসন্ধান শুরু করে। নগরকান্দা থানার পুলিশের একাধিক টিম প্রযুক্তি ও স্থানীয় তথ্যের সহায়তায় ভিডিওটির উৎস শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যেই শিশুটির ফুফু রনি বেগম থানায় ফোন করে পুরো বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত রাধানগর গ্রামে অভিযান চালায় এবং অভিযুক্ত মা বিথী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার শিশুসহ তার অপর সন্তানকেও নিরাপদ হেফাজতে নেয় পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকের পর বিথী আক্তার পুলিশকে তার এমন রোমহর্ষক কাণ্ডের অদ্ভুত এক কারণ ও পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানিয়েছেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত নারীর স্বামী আব্বাস আলী দীর্ঘ আট বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং নানা কারণে তিনি দেশে ফিরছেন না। স্বামীর ওপর ক্ষোভ ও অভিমান থেকেই মূলত সন্তানের ওপর এমন পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে সেই ভিডিও স্বামীর কাছে পাঠানোর জন্য তিনি এই পরিকল্পনা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। তবে এটিই একমাত্র কারণ নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বা মানসিক জটিলতা রয়েছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page