
গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী ও তাঁর সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যা প্রাণ হারিয়েছেন। সম্প্রতি গাজীপুর-গাউছিয়া বাইপাস মহাসড়কের মেঘডুবি কালি ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এলাকায় মধ্যরাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাদের সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা গুরুতর আহত হন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের নীরবতার সুযোগে ঘাতক বাহনটি পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
নিহত নারী হলেন ত্রিশ বছর বয়সী রুজুকা বেগম এবং তাঁর শিশুকন্যা ইয়ামনি। তাঁদের বাড়ি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানার বাগহাতা গ্রামে হলেও তাঁরা গাজীপুর সদরের সালনা বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রুজুকা বেগমের স্বামী মনির হোসেনের পরিবার সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া ছিলেন। গভীর রাতে মহাসড়ক পারাপার কিংবা অন্য কোনো কারণে তারা ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্ধকার মহাসড়কে আকস্মিক এই গাড়ির ধাক্কায় মা ও মেয়ে দুজনই গুরুতর জখম হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
দুর্ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুবাইল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুবাইল থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রুজুকা বেগমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত শিশু ইয়ামনিকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালান এবং হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়।
তবে শেষরক্ষা হয়নি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রাতের শেষভাগে শিশু ইয়ামনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পুবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ঘাতক গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় সেটিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে নিহত মা ও মেয়ের মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘাতক গাড়িটিকে শনাক্ত করতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।