
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি সাত দিনের রোডম্যাপ পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেই প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, তেহরানের এই সর্বশেষ প্রস্তাবটি বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্ক সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই নতুন রোডম্যাপের কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো ওই প্রস্তাবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে স্থগিত থাকা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রস্তাবও ছিল সেখানে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তাবটি মূলত গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যেখানে নানা শর্ত পূরণের পর প্রণালিটি উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে চলমান সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে মার্কিন প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে, তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং জব্দ হওয়া সম্পদের কিছু অংশ ছেড়ে দেবে। এই প্রক্রিয়াগুলোর সফল সমাপ্তির পর সপ্তম দিনে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার কথা ছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক ইস্যুকে আলোচনার শুরুতে না রেখে প্রণালি খুলে দেওয়াকে প্রধান শর্ত করায় ওয়াশিংটন এই পথ এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হতে হলে তা দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার মধ্য দিয়েই এগোতে হবে। দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর তাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে হোয়াইট হাউসের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যেই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে বিমান হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সব মিলিয়ে, দুই পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও চুক্তির শর্ত এবং কর্মপন্থা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান এখনো সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী রয়েছে।