
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ইন্টারনেট থেকে ধারণা নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন এক বিদেশি জাতের ফল চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আবুল বাশার নামের এক উদ্যোক্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজ জমিতে এই ব্যতিক্রমী ফলের বাগান গড়ে তোলেন। স্থানীয়ভাবে আনারকলি বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত এই বিদেশি ফল চাষের প্রথম বছরই দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তিনি। বাগান থেকে উৎপাদিত ফল বিক্রি করে তাঁর খরচ বাদে প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ হয়েছে।
উদ্যোক্তা আবুল বাশার জানান, শখের বশে অনলাইন মাধ্যম ঘেঁটে এই ফল চাষের নানা কৌশল আয়ত্ত করেন তিনি। প্রথমে অল্প পরিসরে চারা সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করলেও পরবর্তীতে পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা সফল বাণিজ্যিক রূপ নেয়। ফলটির অনন্য স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে স্থানীয় বাজারে এর বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। প্রথমবার ফলন এসেই পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা বাগান থেকেই ফল কিনে নিয়ে গেছেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবুল বাশারের এই সাফল্য দেশের কৃষিখাতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে। প্রথাগত ফসলের বাইরে এসে এ ধরনের লাভজনক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ বিদেশি ফল চাষে অনেকেই এখন আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে বেকার যুবকরা যখন এ ধরনের উদ্যোগে সফল হচ্ছেন, তখন তা স্থানীয় অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। জীবননগর উপজেলার কৃষি বিভাগ থেকে এ ধরনের উদ্যোগে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রথম বছরের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর আবুল বাশার এখন তার বাগানের পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। তিনি মনে করেন, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার থাকলে দেশের মাটিতেই অনেক বিদেশি ফল সফলভাবে উৎপাদন করা সম্ভব। তাঁর এই অনুকরণীয় সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি এই লাভজনক ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।