শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে ফিরলেন এমএস নাও, সিএনএন ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা ৩৪ বছর পর এই প্রথম কোনো শিশু জন্মাল প্রত্যন্ত এক স্কটিশ দ্বীপে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে নিয়োগ পেলেন জাইমা রহমান নাৎসি বন্দিশিবিরে অপরাধের অভিযোগে তদন্তের মুখে ১০৫ বছর বয়সী ব্যক্তি ইরান যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সংলাপে ফেরার আহ্বান শি জিনপিংয়ের রাশিয়ার জন্য এবারের শীতকে যন্ত্রণাদায়ক করে তুলব—জাতিসংঘে জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি ট্রাম্প-সি বৈঠক: বাণিজ্য, এআই ও তাইওয়ান নিয়ে আলোচনায় দুই নেতা হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্প-শি, আলোচনায় বাণিজ্য-প্রযুক্তি-নিরাপত্তা জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে ‘লিগ্যাল অফিসার’হলেন জাইমা হোয়াইট হাউসে সি—ট্রাম্প বললেন, মার্কিন-চীন সম্পর্ক নিয়ে আমি গর্বিত

৩৪ বছর পর এই প্রথম কোনো শিশু জন্মাল প্রত্যন্ত এক স্কটিশ দ্বীপে

Reporter Name

স্কটল্যান্ডের অত্যন্ত দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন নর্থ রোনাল্ডসে দ্বীপে দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর পর একটি নতুন প্রাণের জন্ম হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া ওই ছেলেশিশুটির নাম রাখা হয়েছে ডানকান ওয়াইল্ডার থর্সটেইন ট্রেইল সুয়ারেজ ফোর্ড। শিশুটির মা অ্যালিস ট্রেইল ফোর্ড সংবাদমাধ্যমের কাছে এই খুশির খবর নিশ্চিত করেছেন। স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের সর্বউত্তরে অবস্থিত এই দ্বীপটি মাত্র তিন মাইল লম্বা ও দুই মাইল চওড়া। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দ্বীপটির জনসংখ্যা অত্যন্ত কম হলেও বর্তমানে সেখানে মাত্র একান্ন জন মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

শিশুটির মা অ্যালিস ও তাঁর বাগ্‌দত্তা হোর্হে সুয়ারেজ মূলত কোস্টারিকা এবং এই দ্বীপের মধ্যে নিজেদের সময় ভাগ করে বসবাস করেন। তাঁদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল কোস্টারিকাতেই সন্তান প্রসব করার এবং সেই অনুযায়ী ফেরার বিমান টিকিটও কাটা ছিল। কিন্তু দ্বীপে পা রাখার পর অ্যালিস হঠাৎ করেই তাঁর পূর্বের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, নিজের এই পৈতৃক মাটিতে সন্তান জন্ম দেওয়াটাই হবে জীবনের সবচেয়ে বিশেষ ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। উল্লেখ্য, অ্যালিসের পরিবার ১৭২৭ সালে দ্বীপটির মালিকানা অর্জন করেছিল এবং ছোটবেলা থেকেই তিনি নিয়মিত সেখানে সময় কাটিয়ে আসছেন।

পূর্বপুরুষের তৈরি ঐতিহাসিক হল্যান্ড হাউসেই নবজাতকের জন্ম দেন অ্যালিস, যার সঙ্গে তাঁর শৈশব ও কৈশোরের গভীর আবেগ জড়িয়ে আছে। দ্বীপটির সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান এমন যে, তিনি অনুভব করেন দ্বীপটিই তাঁকে তিল তিল করে বড় করে তুলেছে। দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর পর দ্বীপে শিশু জন্মের এই বিরল ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের এই আনন্দ উদযাপনের অংশীদার করতে অ্যালিস বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা করেন। সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে চার পাতার ক্লোভার ও স্থানীয় সামুদ্রিক খোলস দিয়ে সাজানো ছোট হুইস্কির বোতল তিনি প্রতিবেশীদের মাঝে বিতরণ করেন।

দীর্ঘকাল এখানে কোনো শিশু জন্ম না নেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্বীপটিতে কোনো হাসপাতাল বা স্থায়ী চিকিৎসক নেই, সেবিকা হিসেবে আছেন কেবল একজন আবাসিক নার্স। জরুরি কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিলে কোস্টগার্ডের হেলিকপ্টার অথবা জলপথে প্রায় তিন ঘণ্টা ভ্রমণ করে মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে হয়। এই ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও চিকিৎসাগত ঝুঁকির কারণেই সাধারণ মানুষ সাধারণত দ্বীপের বাইরে সন্তান প্রসব করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ফলে এই নবজাতকের আগমন কেবল একটি পরিবারের জন্যই নয়, বরং সমগ্র নর্থ রোনাল্ডসে দ্বীপবাসীর কাছে একটি ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় ঘটনা হয়ে উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page