
১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন আরিফ উল করিম। বিচারক হওয়ার এই দীর্ঘ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ যাত্রায় তাঁর এই অর্জন অনেকের জন্যই এক বিশাল অনুপ্রেরণা। অথচ এই একই তরুণ এর আগেরবার পরীক্ষায় প্রাথমিক বা প্রিলিমিনারি ধাপটিই পার হতে পারেননি। প্রথমবার ব্যর্থতার মুখ দেখার পর তিনি হতাশ না হয়ে নিজের প্রস্তুতিকে আরও শাণিত করার সিদ্ধান্ত নেন।
পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পরও আরিফ উল করিম নিজের লক্ষ্য থেকে একচুলও সরে আসেননি। তিনি নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর ওপর বিশেষ জোর দেন এবং পড়াশোনার কৌশল পরিবর্তন করেন। নিয়মতান্ত্রিক পড়াশোনা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি নিজেকে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করেন। এই আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের ফলস্বরূপ তিনি ১৭তম বিজেএসের প্রতিটি ধাপে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন।
প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা একজন পরীক্ষার্থী কীভাবে দেশের সর্বোচ্চ এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করলেন, তা এখন অনেকের কাছেই এক দৃষ্টান্ত। বিচার বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হওয়ার স্বপ্ন তাঁকে সবসময় সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে প্রাথমিক ব্যর্থতা কখনোই শেষ কথা নয়, বরং সঠিক দিকনির্দেশনা ও অদম্য ইচ্ছা থাকলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।
আরিফ উল করিমের এই অভাবনীয় সাফল্যে তাঁর পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অত্যন্ত আনন্দিত। আইন পেশা ও বিচার বিভাগে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক দেশের হাজারো তরুণ শিক্ষার্থীর জন্য তাঁর এই গল্প এক নতুন বার্তা বয়ে এনেছে। কঠোর পরিশ্রম এবং শত প্রতিকূলতার মধ্যেও হাল না ছাড়ার মানসিকতাই যে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি, আরিফ তার এক উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখলেন।