
দেশের বাজারে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল এবং অকটেনের মতো জরুরি জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি মনে করে যে, জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তুলবে এবং এর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতিতে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ যাতায়াত খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাভিশ্বাস উঠবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
এবি পার্টির শীর্ষ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহার করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের ওপর এ ধরনের বাড়তি চাপ তৈরি করা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়, বরং এতে জনগণের কষ্টের বোঝা আরও ভারী হবে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের উচিত ছিল সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা, যা এই সংকটে অনুপস্থিত ছিল।
জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করার ওপর জোর দিয়ে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, মূল্যবৃদ্ধির সহজ পথ বেছে না নিয়ে বরং এই খাতের দুর্নীতি রোধ ও লুটপাট বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। বিগত দিনগুলোতে ভুল নীতি এবং কার্যকর তদারকির অভাবেই জ্বালানি খাতের এই বেহাল দশা তৈরি হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ওপর এই ধরনের অযৌক্তিক আর্থিক বোঝা চাপানোর কোনো প্রয়োজন হতো না বলেও তারা মনে করেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রতি অবিলম্বে জ্বালানি খাতে একটি টেকসই, জনবান্ধব এবং বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে এবি পার্টি। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, জনগণের স্বার্থবিরোধী এমন সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে তা জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করবে এবং সাধারণ মানুষ রাজপথে এর জোরালো প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হবে। তাই সময়ক্ষেপণ না করে অবিলম্বে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।