
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.২৬ শতাংশে। এর পাশাপাশি খাদ্য খাতের মূল্যস্ফীতির হারও হ্রাস পেয়ে নেমে এসেছে ৭.০২ শতাংশে। পরিসংখ্যানের হিসাবে মূল্যস্ফীতির এই পরিসংখ্যান স্বস্তিদায়ক মনে হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর সুফল এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি।
মূল্যস্ফীতির এই পরিসংখ্যানের পেছনে কাজ করছে বাজারের বিভিন্ন নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম, যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতাকে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে মূল্যস্ফীতি হ্রাসের চিত্র ফুটে উঠলেও বাজারে এর বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন না ভোক্তারা। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে সব ধরনের খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ পরিবারগুলোর মাসিক বাজেট সামলানো অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মজুরি বৃদ্ধির হারের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হারের একটি বড় ব্যবধান। সাধারণ শ্রমিক ও চাকরিজীবীদের আয়ের বৃদ্ধির হার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারছে না। ফলে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সংকোচন করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু পরিসংখ্যানের হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমালেই মানুষের কষ্ট লাঘব হয় না, যদি না মানুষের প্রকৃত আয় বা মজুরি বৃদ্ধি পায়।
সার্বিক এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের সঞ্চয় বলতে প্রায় কিছুই অবশিষ্ট থাকছে না। বাজারের এই দীর্ঘমেয়াদী চাপ সামলাতে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে এবং অনেকে বাধ্য হয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দিচ্ছে। মজুরি ও মূল্যস্ফীতির এই অসামঞ্জস্য দূর না হলে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং প্রকৃত স্বস্তি নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।