
দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিস। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির এই ঘোষণা আসার পর থেকেই জনমনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, এই ধরনের হঠকারী ও জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তুলবে। সরকারের এই পদক্ষেপে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে বলে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেছেন যে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার। তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে চাল, ডাল, তেল ও শাকসবজিসহ প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের বাজারে। এর ফলে এমনিতেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে পিষ্ট সাধারণ মানুষ আরও বেশি আর্থিক সংকটের মুখে পড়বে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা এমনিতেই কমে এসেছে, এমতাবস্থায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি মরির ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দেবে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে খেলাফত মজলিস অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করার জোরালো দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, কোনো ধরনের জনমত যাচাই বা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা না করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া আত্মঘাতী। সরকারের নীতিনির্ধারকদের উচিত অনতিবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জনস্বার্থ রক্ষায় বিকল্প কোনো পথ খুঁজে বের করা। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দলটি।
সবশেষে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে জনগণের ওপর নতুন করে বোঝা চাপিয়ে না দিয়ে বরং রাষ্ট্রীয় খাতের অপচয় ও দুর্নীতি রোধে নজর দেওয়া উচিত। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তোলার পরিবর্তে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন খেলাফত মজলিসের নেতারা। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং সরকার দ্রুত এই বর্ধিত মূল্য বাতিলের ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেবে।