সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

কুমিল্লায় মা-ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যা, যুবক আটক

Reporter Name

কুমিল্লার দেবিদ্বারে পারিবারিক কলহ ও আত্মহত্যার চেষ্টায় বাধা দেওয়ার জেরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে সম্প্রতি এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের এলোপাতাড়ি দায়ের কোপে তার নিজের মা ও আট মাসের এক শিশু ভাতিজি নিহত হয়েছেন। এই রোমহর্ষক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহতদের মধ্যে ৬২ বছর বয়সী পেয়ারা বেগম হলেন অভিযুক্তের মা এবং শিশু ইসরাত তার আট মাস বয়সী ভাতিজি। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্ত ইমনের পায়ে শারীরিক জটিলতা থাকায় কিছুদিন আগে তার অপারেশন হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তার আচরণে নানা অস্বাভাবিকতা ও মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে শুরু করে। গত কিছুদিন ধরে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটেছিল বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আগের রাতে ইমন ঘরে নিজের জীবন শেষ করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। সে সময় তার মা পেয়ারা বেগম এবং ভাবি রাবেয়া বেগম সময়মতো এগিয়ে এসে তাকে নিরস্ত করেন। কিন্তু পরদিন সকালে সেই পুরনো বিষয় নিয়ে ঘরে পুনরায় তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ইমন উগ্র হয়ে ঘর থেকে ধারালো দা এনে তার মায়ের ওপর চড়াও হন এবং তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন।

আক্রমণের সময় দাদির কোলে থাকা আট মাসের শিশু ইসরাতও ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়। তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে ভাবি রাবেয়া বেগমকেও কুপিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়। পরবর্তীতে বাড়ির অন্যান্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তিনজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রবীণ নারী পেয়ারা বেগম ও শিশু ইসরাতকে মৃত বলে ঘোষণা করেন এবং গুরুতর আহত রাবেয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই স্থানীয় সাহসী জনতা ঘাতক ইমনকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন এবং পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page