
রাজধানীর ব্যস্ততম শাহবাগ এলাকার ফুটপাতে দীর্ঘদিন ধরে চরম মানবেতর ও অসহায় জীবনযাপন করে আসছিলেন গোলাপি বেগম নামের এক নারী। অনিশ্চয়তা ও কষ্টের সেই দিনগুলোতে তাঁর জীবন কীভাবে কাটছিল, তা সাধারণ মানুষের নজর এড়িয়ে গেলেও একপর্যায়ে তা দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলের দৃষ্টিগোচর হয়। সম্প্রতি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়1োজিত একটি রাজনৈতিক সমাবেশের সময়ে জনাকীর্ণ ওই এলাকায় তাঁর এই অসহায় অবস্থার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নজরে আসে এবং তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার পরিচয় দিয়ে ওই নারীর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয় যাতে অবিলম্বে গোলাপি বেগমকে ফুটপাতের মানবেতর জীবন থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। তাঁর এই নির্দেশনার ফলে সমাজের একজন অবহেলিত ও প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা ঘটে।
প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততার সঙ্গে গোলাপি বেগমের উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁর যথাযথ পুনর্বাসনের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত থাকা এই নারীর সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকায় তাঁর নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। সরকারের এই কার্যকর পদক্ষেপে তাঁর জীবনের অন্ধকার দূর হয়ে নতুন এক আশার আলো দেখা দেয়।
প্রায় এক বছর ধরে চলা এই চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গোলাপি বেগম এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। ফুটপাতের খোলা আকাশের নিচে দিন কাটানো সেই অসহায় নারী এখন একটি স্থায়ী ও নিরাপদ ঘরে নিজের মতো করে দিন কাটাচ্ছেন। রাষ্ট্রনায়কোসুল এই মানবিক উদ্যোগের ফলে একজন সহায়হীন মানুষের জীবন রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি এটি সমাজে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।