বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

জিমের যে ভুলে কমতে পারে প্রজনন ক্ষমতা

Reporter Name

শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখতে এবং পেশি শক্তিশালী করতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নিয়মিত জিম করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। অনেকেই দ্রুত কাঙ্ক্ষিত শরীর গঠনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনো ধরনের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই টেস্টোস্টেরন বা অ্যানাবলিক স্টেরয়েডের মতো কৃত্রিম হরমোন ব্যবহার করে থাকেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের হরমোন ও স্টেরয়েডের যত্রতত্র ব্যবহার প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে এবং ভবিষ্যতে পিতা হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যারা আগামী দিনে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই কৃত্রিম উপাদানগুলোর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে গভীরভাবে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

আমাদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন এবং শুক্রাণু উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়াটি মস্তিষ্ক ও অণ্ডকোষের একটি জটিল হরমোন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। যখন বাইরে থেকে কৃত্রিম উপায়ে টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করা হয়, তখন মস্তিষ্ক মনে করে যে শরীরে এই হরমোনের পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে, যার ফলে অণ্ডকোষকে উদ্দীপিত করার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। এর প্রভাবে লুটিনাইজিং হরমোন বা এলএইচ এবং ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন বা এফএসএইচের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। এই হরমোনগুলো স্বাভাবিকভাবে শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা পালন করায়, কৃত্রিম হরমোনের প্রভাবে শরীরের নিজস্ব শুক্রাণু তৈরির ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

অনেকের মাঝেই একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেশি থাকা মানেই প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া। কিন্তু বাস্তবে রক্তে এই হরমোনের উচ্চ মাত্রা এবং শুক্রাণু উৎপাদনের বিষয়টি সম্পূর্ণ এক নয়। চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির রক্তে টেস্টোস্টেরন বেশি থাকলেও তার শুক্রাণুর সংখ্যা অত্যন্ত কম হতে পারে। একইভাবে অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ব্যবহারের ফলে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতিশীলতা তো কমেই, এমনকি অনেক সময় অণ্ডকোষের আকারও ছোট হয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যেখানে বীর্যে কোনো শুক্রাণু থাকে না, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যাজুস্পার্মিয়া বলা হয়ে থাকে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ক্ষতিকর এসব পদার্থ ব্যবহার বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই প্রজনন ক্ষমতা রাতারাতি আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। মানবদেহে একটি নতুন শুক্রাণু তৈরি হতে সাধারণত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ দিন সময় প্রয়োজন হয়, ফলে উৎপাদন স্বাভাবিক হতে বেশ কয়েক মাস সময় লেগে যায়। এই পুনরুদ্ধারের সময়কাল নির্ভর করে মূলত কত দীর্ঘ সময় ধরে এবং কী পরিমাণে ওই স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়েছিল তার ওপর। অনেকের ক্ষেত্রে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও, কারও কারও ক্ষেত্রে এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ফলে সম্পূর্ণ সুস্থতা ফিরে পাওয়া অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

নিয়মিত ব্যায়াম করা, ভারোত্তোলন করা বা জিমে যাওয়া কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয়, বরং এটি সুস্থ জীবনের অংশ। মূল সমস্যাটি তৈরি হয় যখন কেউ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়াই নিজের সিদ্ধান্তে শরীরে কৃত্রিম হরমোন প্রবেশ করান। ফিটনেস ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রজনন স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে হলে সুষম খাবার, সঠিক প্রোটিন গ্রহণ এবং নিরাপদ জীবনধারার ওপর জোর দেওয়া উচিত। কোনো ধরনের হরমোন থেরাপি নেওয়ার কথা চিন্তা করলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিজের ভবিষ্যৎ প্রজনন পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা আবশ্যক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page