
দেশের শিক্ষাঙ্গনে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ভর্তির চিত্র নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে এক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির উপযোগী মোট আসনের সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ। অথচ এই বিপুল পরিমাণ আসনের বিপরীতে ভর্তির জন্য প্রাথমিক আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ১০ লাখের কাছাকাছি। এর ফলে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই অর্ধেকের বেশি আসন খালি থাকার এক অদ্ভুত ও অভাবনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যার তুলনায় উচ্চমাধ্যমিকে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অনেক বেশি। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহের আধিক্য দেখা দেওয়ায় এই বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী প্রচলিত ধারার বাইরে কারিগরি বা ভিন্নমুখী শিক্ষার দিকে ঝোঁকায় সাধারণ কলেজে ভর্তির আগ্রহ দিন দিন কিছুটা কমে আসছে।
এদিকে দেশের কলেজগুলোতে অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থাকার এই নেতিবাচক প্রবণতার কারণে ভবিষ্যতে নানা ধরনের জটিল সংকটের আশঙ্কা করছেন শিক্ষাবিদেরা। বিশেষ করে মফস্বল অঞ্চলের অনেক বেসরকারি কলেজ পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না পাওয়ার কারণে মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করাও তাদের জন্য দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে রাজধানী বা বড় শহরগুলোর মানসম্মত ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা বহাল থাকলেও মফস্বলের কলেজগুলোতে আসন শূন্য পড়ে থাকার এই ব্যবধান শিক্ষাব্যবস্থায় এক ধরণের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আসন সংখ্যার যৌক্তিক পুনর্নির্ধারণ করা।