বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

ইসরায়েলকে শক্তিশালী বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Reporter Name

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সামরিক শক্তি আরও সুদৃঢ় করতে নতুন একটি বড় অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় প্রায় দুই হাজার পাউন্ড ওজনের অত্যন্ত শক্তিশালী বোমা ইসরায়েলের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের বিষয়ে ওয়াকিবহাল মার্কিন কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আলোচিত চুক্তির আওতায় বিশাল পরিমাণের অস্ত্র সরবরাহের কথা রয়েছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত রূপ পায়নি এবং বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে অনানুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই অস্ত্র প্যাকেজের বেশিরভাগ অর্থায়নই আসবে বিশেষ বৈদেশিক সামরিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে, যার মাধ্যমে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ইসরায়েলে অস্ত্র ক্রয়ের জন্য ব্যয় করা হয়।

নতুন এই অস্ত্র চুক্তির প্রস্তাব কার্যকর হলে গাজা উপত্যকায় এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে। প্রস্তাবিত অস্ত্র চালানে বিপুল সংখ্যক শক্তিশালী বোমা থাকার কথা রয়েছে, যা ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ জনপদে ব্যবহারের মাধ্যমে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটাতে পারে। এর আগে বাইডেন প্রশাসনের আমলে গাজায় ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি বিবেচনায় একই ধরনের বোমার একটি চালান আটকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা গ্রহণের পর পূর্বের সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহের পথ উন্মুক্ত করেন। গাজায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও মাঝে মাঝেই সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে এই নতুন অস্ত্র সহায়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুই হাজার পাউন্ড ওজনের এসব ধ্বংসাত্মক বোমার মধ্যে কিছু ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আঘাত হানার উপযোগী এবং কিছু মাটির ওপরে বিশাল এলাকা জুড়ে তাণ্ডব চালানোর ক্ষমতাসম্পন্ন। যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করে না, তবে ঘটনাস্থলের ধ্বংসাবশেষ ও হামলার দৃশ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন যে সেখানে মার্কিন প্রযুক্তির এসব বোমা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। হামাসের সুড়ঙ্গ ধ্বংসের পাশাপাশি গাজার অত্যন্ত জনবহুল আবাসিক এলাকাগুলোতেও এই মারণাস্ত্র প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় সংঘাত কিছুটা মন্থর হলেও, এই বিপুল পরিমাণ ভারী বোমা সরবরাহের পরিকল্পনা কার্যকর হলে সেখানে আবারও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের এটি কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, বরং ধারাবাহিক সামরিক সহায়তারই একটি অংশ। এর আগেও গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে হাজার হাজার ভারী বোমা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এমনকি চলতি বছরের প্রথম দিকেও ইসরায়েলের সামরিক বহর সমৃদ্ধ করতে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটনের এই অস্ত্র কূটনীতি আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষেরা যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন এই ধরনের ভারী অস্ত্রের চালান নতুন করে রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page