
কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী সার সরবরাহ, মজুত ও বিতরণ পরিস্থিতি তদারকি করতে সম্প্রতি একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের নানা অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির মতো বিষয়গুলোর প্রতিকার পেতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সরকারের এই জনকল্যাণমূলক সেবাটি চালুর পর থেকেই এর কার্যকারিতা নিয়ে নানা অভিজ্ঞতা সামনে আসতে শুরু করেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা লক্ষ্য করছেন যে, প্রকৃত অভিযোগের পাশাপাশি এই কন্ট্রোল রুমে প্রায়শই নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও অদ্ভুত ফোন কল আসছে।
কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রমে দেখা গেছে, অনেক সময় সাধারণ মানুষ কোনো সুনির্দিষ্ট সমস্যা ছাড়াই কেবল লাইনটি সচল রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য কল করছেন। এমনকি পরিচয় গোপন করে ভুয়া অভিযোগ দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে, যা নিয়ে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। উদাহরণস্বরূপ, জামালপুরের ইসলামপুর থেকে এক ব্যক্তি ডিলার সার দিচ্ছে না বলে মিথ্যে অভিযোগ নথিভুক্ত করান। পরবর্তীতে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা যায় ওই অভিযোগের কোনো সত্যতা ছিল না এবং অভিযোগকারী নিজেও প্রকৃত কৃষক কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ধরনের অসংখ্য অপ্রয়োজনীয় ও ভুয়া কলের ভিড়েও এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে কিছু প্রকৃত সমস্যার সমাধানও মিলছে। রাজশাহী ও গাইবান্ধার মতো কিছু এলাকায় সার নিয়ে ডিলারদের অনিয়ম ও হট্টগোলের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। অনেক নাগরিক ডিলারদের দুর্ব্যবহার কিংবা সার না পাওয়ার অভিযোগ জানিয়ে দ্রুত প্রতিকারও পেয়েছেন। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে সচিবালয়ের নির্দিষ্ট কক্ষে দুই শিফটে এই কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ২৭টি বিশেষ দলের মাধ্যমে পরিচালিত এই কার্যক্রমে প্রতিদিনের প্রাপ্ত অভিযোগ, তদন্ত এবং গৃহিত পদক্ষেপগুলো গুরুত্বের সঙ্গে রেজিস্টারে সংরক্ষণ করা হয়। কৃত্রিম সংকট মোকাবিলা এবং সার বিতরণের অনিয়ম রোধে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, সেবামূলক এই হটলাইনটির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করছেন সংশ্লিষ্টরা।