মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, পদদলিত হয়ে শিশুসহ নিহত ৬

Reporter Name

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে সম্প্রতি এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো হাসপাতাল চত্বরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা নামার ঠিক আগমুহূর্তে নতুন ভবনের ভেতরে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে রোগীদের মধ্যে হুলুস্থুল কাণ্ড শুরু হয়। প্রাণ বাঁচাতে সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে হুড়োহুড়ি করে নিচে নামার সময় পদদলিত হয়ে শিশুসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাদের অবস্থা আরও অবনতি হলে মোট ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও একজনের ক্ষেত্রে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হাসপাতালের নতুন ভবনের একটি অকেজো লিফট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা ওই লিফটটিতে প্রচুর পরিমাণে ময়লা-আবর্জনা জমে ছিল। সেখান থেকেই ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়ে দ্রুত তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট আতঙ্কে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে প্রকাশ, লিফটে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। এতে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগী, তাদের সঙ্গে থাকা স্বজন এবং দায়িত্বে থাকা চিকিৎসাকর্তা ও কর্মীরা ভয় পেয়ে যান। সবাই জীবন বাঁচাতে একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নিচতলার দিকে ছুটতে শুরু করেন। সিঁড়িতে মানুষের প্রচণ্ড ভিড় জমে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আতঙ্কিত মানুষ হুড়োহুড়ি করে নিচে নামার সময় অনেকে মাটিতে পড়ে যান। তাদের ওপর দিয়েই অন্যরা দৌড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করায় এই প্রাণঘাতী পদদলনের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়। আগুন নিভে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে হাসপাতাল চত্বরের থমথমে ভাব কাটতে শুরু করে। এদিকে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞরা অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকা একটি লিফট কীভাবে এত বড় বিপদের কারণ হলো, তা নিয়েও নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর হাসপাতালগুলোর অগ্নিঝুঁকি ও জরুরি নির্গমন পথ নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page