মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৬

Reporter Name

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে এবং এর মধ্যেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চার বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও চিকিৎসকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আক্রান্তদের সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে আসার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম তাসমিন এবং সে নগরীর পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা ছিল। ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর তাকে অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় পরবর্তীতে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর শিশুটির মৃত্যু হয়। এই একটি মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, চলতি বছর চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মারা গেছেন চারজন এবং জেনারেল হাসপাতালে মারা গেছেন একজন। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও আটজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের অনেকেই শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় চিকিৎসকদের আর করার কিছু থাকে না।

এদিকে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৫ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ১০ জন এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে বাকি রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং এবং নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। মশার উপদ্রব কমাতে এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। চিকিৎসকরা বলছেন, সামান্য জ্বর বা উপসর্গ দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত এবং ডেঙ্গু পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page