সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

ব্যাংকের উপশাখায় আমানত বাড়লেও কমেছে ঋণ বিতরণ

Reporter Name

দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সম্প্রসারিত নেটওয়ার্কে আমানত সংগ্রহের প্রবণতা বাড়লেও ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তফসিলি ব্যাংকগুলোর উপশাখা সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক আমানত বৃদ্ধির গতির তুলনায় উপশাখাগুলোতে আমানত বৃদ্ধির হার ছিল বেশ সন্তোষজনক। তবে সংগৃহীত এই আমানতের বিপরীতে ঋণ বিতরণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা আর্থিক খাতের সার্বিক গতিপ্রকৃতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চলতি বছরের নির্দিষ্ট তিন মাসের প্রান্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, উপশাখাগুলোতে আমানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ মাসের শেষ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর এই ক্ষুদ্র পরিসরের শাখাগুলোতে আমানতের মোট স্থিতি যেখানে প্রায় উনআশি হাজার কোটি টাকার ঘরে ছিল, জুন শেষে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চুরাশি হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। শতকরা হিসেবে এই তিন মাসের ব্যবধানে উপশাখাগুলোতে আমানত বৃদ্ধির হার ছিল পাঁচ শতাংশের অধিক। অথচ একই সময়ে পুরো ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক আমানত বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল, যা প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষের কাছে উপশাখাগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই উপশাখাগুলোর মাধ্যমেই সংগৃহীত হচ্ছে।

আমানত সংগ্রহের এই ইতিবাচক ধারার বিপরীতে উপশাখাগুলোর মাধ্যমে ঋণ বিতরণের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। নির্দিষ্ট ওই তিন মাসের ব্যবধানে উপশাখাগুলোর ঋণের স্থিতি বৃদ্ধির পরিবর্তে উল্টো কমেছে। মার্চ শেষে যেখানে উপশাখাগুলোর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল, জুন শেষে তা হাজার কোটি টাকার বেশি হ্রাস পেয়েছে। শতকরা হিসেবে ঋণের স্থিতি কমার এই হার ছিল সাত শতাংশের বেশি। অথচ একই সময়ে দেশের পুরো ব্যাংক খাতের সামগ্রিক ঋণের স্থিতি সামান্য হলেও বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার ফলে ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক ঋণ বিতরণের সাথে উপশাখাগুলোর কার্যক্রমের ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ঋণ বিতরণ কিছুটা কমলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাংকগুলোর উপশাখার সংখ্যা এবং সেগুলোতে গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রবণতা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, তিন মাসের ব্যবধানে নতুন করে অর্ধশাটটির মতো উপশাখা চালু করা হয়েছে, যার ফলে এই ক্ষুদ্র শাখাগুলোর মোট সংখ্যা পাঁচ হাজার অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের মাঝে হিসাব খোলার আগ্রহ বাড়ার কারণে উপশাখাগুলোতে মোট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে এসব হিসাবের একটি বড় অংশে নারী গ্রাহকদের অংশগ্রহণ লক্ষ করা গেছে, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page