সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

একজন বেশি নিয়েও পারলো না ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার ডার্বিতে সিটির জয়

Reporter Name

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অনুষ্ঠিত এই ১৯৯তম ম্যানচেস্টার ডার্বি ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত নাটকীয় এক জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। যেখানে পেপ গার্দিওলার উত্তরসূরি এনজো মারেস্কার অধীনে খেলতে নামা ম্যানচেস্টার সিটি ১-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে স্বাগতিক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করেন নরওয়েজিয়ান তারকা স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ড। তবে গোলের আনন্দের চেয়েও রেফারির বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ম্যাচের পর আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই উভয় দলের ফুটবলারদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও লড়াই লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের ২৩ মিনিটে বড় একটি মোড় পরিবর্তন ঘটে, যখন সিটির মিডফিল্ডার ফিল ফোডেনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় ব্রুনো ফার্নান্দেসের সঙ্গে একটি ঘটনার পর নিজের মেজাজ হারিয়ে ফেলায় তাকে এই কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলায় বড় বিপদে পড়ে যায় সিটি দল। তবে এই পরিস্থিতির পরও তারা মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে দারুণভাবে খেলায় টিকে থাকে এবং রক্ষণভাগ সুদৃঢ় রাখে।

সংখ্যার দিক থেকে মাঠে একজন খেলোয়াড় বেশি থাকার সুবিধাটি একেবারেই কাজে লাগাতে পারেনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পুরো ম্যাচে তারা বেশ কয়েকটি আক্রমণ তৈরি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। বিশেষ করে স্বাগতিক দলের ফরোয়ার্ড মার্কাস রাশফোর্ড এবং তরুণ মিডফিল্ডার কোবি মেইনু দারুণ কিছু সুযোগ পেলেও তাদের শট বারে লেগে প্রতিহত হয়। ফলে সংখ্যায় পিছিয়ে থাকা সিটির রক্ষণভাগ ভেঙে গোল আদায় করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় রেড ডেভিলরা। উল্টো ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে এসে তারা পিছিয়ে পড়ে প্রতিপক্ষের নিখুঁত এক আক্রমণের মুখে।

ম্যাচের ৬০ মিনিটে আসে সেই বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত মুহূর্তটি, যা নিয়ে ম্যাচের পর দুই শিবিরে তৈরি হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আরলিং হালান্ড বল জালে জড়ালে প্রথমে সহকারী রেফারি সেটিকে অফসাইড বলে বাতিল ঘোষণা করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয় এবং গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তে ইউনাইটেড শিবিরে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও সিটির জন্য এটিই হয়ে ওঠে জয় নিশ্চিত করার মোক্ষম সুযোগ। এরপর ম্যাচের শেষ সময়ে ইউনাইটেড সমতা ফেরানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালালেও সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার একটি দুর্দান্ত সেভ তাদের সব আশায় জল ঢেলে দেয়।

এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল ম্যানচেস্টার সিটি। চার ম্যাচ শেষে বারো পয়েন্ট সংগ্রহ করে তারা টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে, যেখানে গোল ব্যবধানে কেবল আর্সেনালের পেছনে রয়েছে তারা। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হেরে গিয়ে চরম হতাশায় ডুবল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, যাদের সংগ্রহ চার ম্যাচে মাত্র চার পয়েন্ট। মাঠের লড়াইয়ে জয় পেলেও রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর রেশ সমর্থকদের মাঝে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়ে চলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page