
মধ্যপ্রাচ্যের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল জলপথের নিয়ন্ত্রণ অর্জনের সুযোগ তৈরি করেছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। সম্প্রতি এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পরিচালিত একটি ঝটিকা অভিযান ওই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন মোড় দিয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের চলমান বৈরিতা যখন দীর্ঘায়িত রূপ নিচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে এই নতুন সংকট সামনে এল। তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলা এই উত্তেজনার মধ্যেই হুথিদের এই সামরিক তৎপরতা মার্কিন প্রশাসনের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের দখল বা নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে চলে গেলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রধান এই রুটটি রক্ষা করা এখন মার্কিন নীতিনির্ধারকদের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন বিশ্লেষকরা।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় মার্কিন প্রশাসন ও তাদের মিত্ররা সম্ভাব্য কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে গড়ে ওঠা এই শক্তিকে দমানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সহজ হবে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। সবমিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখার লড়াইয়ে এই নতুন ঘটনা এক জটিল ও সংকটময় অধ্যায়ের সূচনা করেছে।