
রাজনৈতিক সম্মেলন কিংবা কূটনৈতিক বৈঠক সাধারণত গুরুগম্ভীর আলোচনার মাধ্যমেই পরিচিত হয়ে থাকে। তবে গত কিছুদিন আগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে গিয়ে এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। কঠোর নিরাপত্তার ও আনুষ্ঠানিকতার কূটনৈতিক এই সফরে তিনি নিজের সুরের জাদুতে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেন। তার এমন এক অনবদ্য পরিবেশনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে আয়োজিত ওই সম্মেলনের এক নৈশভোজ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই চমকপ্রদ কাজটি করেন। সেখানে লাইভ পিয়ানোর চমৎকার সঙ্গীতের সঙ্গে তিনি কণ্ঠ দেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী কিশোর কুমারের ১৯৬৫ সালের অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘খোয়াব হো তুম ইয়া কোই হকিকত’। এস ডি বর্মনের সুরারোপিত এবং মাজরুহ সুলতানপুরীর কথায় সাজানো এই ক্লাসিক গানটি মূলত ‘তিন দেবিয়াঁ’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল, যা আজও সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
কূটনৈতিক ব্যস্ততার মাঝে এমন একটি মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা মুহূর্তেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অতিথি ও কর্মকর্তার নজর কেড়ে নেয়। আনুষ্ঠানিকতার ঘেরাটোপ ভেদ করে সেই আসরটি দুই দেশের মধ্যে এক উষ্ণ সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মঞ্চে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গান পরিবেশন করার সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেন। সেখানে তিনি গুরুকে উদ্দেশ করে গান গাওয়ার অনুমতি চাওয়ার ভঙ্গিতে একটি ক্যাপশনও জুড়ে দেন, যা দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
উল্লেখ্য যে, ভারতীয় গান ও চলচ্চিত্রের প্রতি মালয়েশিয়ার এই সরকারপ্রধানের গভীর অনুরাগের কথা এর আগেও বহুবার প্রকাশ পেয়েছে। এর আগে তিনি অন্য একটি অনুষ্ঠানে মুকেশের গাওয়া বিখ্যাত ‘দোস্ত দোস্ত না রাহা’ গানটিও পরিবেশন করে সবার নজর কেড়েছিলেন। কেবল হিন্দি সিনেমা নয়, বরং দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রতিও তার রয়েছে বিশেষ অনুরাগ। এর আগে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বৈঠকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব এম জি রামচন্দ্রন তথা এমজিআরের কাজের প্রতি আনোয়ার ইব্রাহিমের গভীর আগ্রহের কথা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছিলেন।