
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত পহেলা সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। এই অনুমোদনের খবর আসার পর থেকেই দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল যে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব দ্রুতই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
সেই সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, অনুমোদনের পর বড়জোর এক সপ্তাহ কিংবা তার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হতে পারে। কিন্তু নির্ধারিত সেই সময়সীমা পার হয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এই দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন জারি হতে দেরি হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকের মধ্যেই বর্তমানে উদ্বেগ ও হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং বকেয়া পাওনা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনিক জটিলতা বা অন্য কোনো কারণে এই কল্যাণকর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে কি না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আগে বিভিন্ন দপ্তরে আর্থিক হিসাব-নিকাশ এবং প্রশাসনিক কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে শেষ করার জন্যই মূলত প্রজ্ঞাপন প্রকাশে কিছুটা সময় বেশি লাগছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে দ্রুত এই প্রজ্ঞাপন জারি করে বিষয়টি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।