রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

গুগল ম্যাপ আগে থেকেই কীভাবে ট্র্যাফিক জ্যাম বুঝে ফেলে?

Reporter Name

অপরিচিত কোনো গন্তব্যে যাতায়াত করার সময় বর্তমান যুগের বেশিরভাগ মানুষই নির্ভর করেন জনপ্রিয় নেভিগেশন অ্যাপ গুগল ম্যাপসের ওপর। এই অ্যাপে গন্তব্য সেট করার সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে বিভিন্ন রঙের রেখা, যার মাধ্যমে রাস্তার বর্তমান অবস্থার একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। বিশেষ করে সবুজ রঙের মানে স্বাভাবিক গতি হলেও হলুদ বা গাঢ় লাল রঙ দেখলে সহজেই বোঝা যায় যে সামনে তীব্র যানজট রয়েছে। তবে রাস্তায় কোনো ক্যামেরা না থাকা সত্ত্বেও গুগল ম্যাপস কীভাবে এত দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে সামনের জ্যামের খবর জেনে যায়, তা নিয়ে অনেকের মনেই কৌতূহল কাজ করে থাকে। মূলত আধুনিক প্রযুক্তি, বিপুল পরিমাণ লোকেশন ডাটা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে এই অসাধারণ কাজটি সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

এই ব্যবস্থার পেছনের মূল কাজটি সম্পন্ন হয় ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে সংগৃহীত লোকেশন ডাটা বিশ্লেষণ করে। কোনো নির্দিষ্ট সড়কে যখন প্রচুর সংখ্যক স্মার্টফোন ব্যবহারকারী একসঙ্গে অবস্থান করেন, তখন তাদের ডিভাইসের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে অ্যাপটি। ধরা যাক, কোনো একটি সড়কে সাধারণ সময়ে যানবাহনগুলো নির্দিষ্ট গতিতে চলাচল করলেও হঠাৎ যদি ওই এলাকার একাধিক ডিভাইসের গতি অনেক কমে যায়, তখন সিস্টেমটি অনুমান করে নেয় যে সেখানে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে গুগল ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি গাড়ির ওপর আলাদাভাবে নজরদারি চালাচ্ছে; বরং অসংখ্য ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত সমষ্টিগত তথ্যের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট রাস্তার সামগ্রিক গতির চিত্র তৈরি করা হয়।

কেবল রিয়েল-টাইম তথ্যই নয়, এর পাশাপাশি ঐতিহাসিক বা পুরোনো ট্র্যাফিকের হিসাবও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অতীতে কোন দিন এবং ঠিক কোন সময়ে নির্দিষ্ট কোনো সড়কে কেমন চাপ থাকে, তার বিশদ রেকর্ড জমা থাকে গুগলের সার্ভারে। সপ্তাহের কর্মদিবসে সকালে অফিসগামী মানুষের চাপ কিংবা ছুটির দিনের বিশেষ সময়ে গাড়ির যাতায়াতের ধরন বিশ্লেষণ করে অ্যাপটি। এই অতীতের প্রবণতাগুলোর সঙ্গে বর্তমান মুহূর্তের লাইভ ডেটা যুক্ত করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে যাত্রার সম্ভাব্য সময় ও জ্যামের পূর্বাভাস তৈরি করা হয়, যার ফলে ব্যবহারকারীরা রওনা হওয়ার আগেই রাস্তার অবস্থা সম্পর্কে সতর্ক হতে পারেন।

হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা, রাস্তা মেরামত কিংবা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া জ্যাম বুঝতে ব্যবহারকারীদের সরাসরি পাঠানো রিপোর্টের ওপরও ভরসা করে এই নেভিগেশন সিস্টেম। অনেক সময় স্থানীয় ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও সরাসরি তথ্য নিয়ে তা এই বিশ্লেষণে যুক্ত করা হয়, যা ম্যাপের কার্যকারিতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তবে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় যদি পর্যাপ্ত লাইভ ডাটা বা ব্যবহারকারীর সক্রিয়তা না থাকে, তবে সেখানে ট্রাফিকের পূর্বাভাস কিছুটা কম নির্ভুল হতে পারে। সবমিলিয়ে, ম্যাপে প্রদর্শিত রঙিন রেখাগুলো কোনো স্যাটেলাইটের সরাসরি তোলা ছবি নয়, বরং জটিল অ্যালগরিদম ও বিশাল ডাটার এক নিখুঁত পরিসংখ্যানগত রূপ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page