
পরিবারে কোনো পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকার পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন কীভাবে হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রায়ই নানা ধরনের আইনি ও ধর্মীয় প্রশ্ন দেখা দেয়। উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী স্বামীর মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে স্ত্রীদের নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে, যা বিভিন্ন দেশের আইন এবং ধর্মীয় বিধানের আলোকে নির্ধারিত হয়। এই জটিল বিষয়টি সঠিকভাবে অনুধাবন করার জন্য দেশের প্রচলিত দেওয়ানি আইন এবং ধর্মীয় অনুশাসন উভয় বিষয় সম্পর্কেই স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশের প্রচলিত মুসলিম পারিবারিক আইন এবং ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের অর্জিত সম্পত্তির ভাগ কীভাবে বণ্টিত হবে, তার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তির সন্তানাদি থাকে, তবে সব স্ত্রী মিলে মোট সম্পত্তির নির্দিষ্ট একটি অংশ অর্থাৎ সাধারণত আট ভাগের এক ভাগ বা আট ভাগের সমপরিমাণ অংশ পেয়ে থাকেন। আর যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা উত্তরাধিকারী না থাকে, তবে স্ত্রীদের প্রাপ্ত সম্পত্তির এই অংশ বেড়ে চার ভাগের এক ভাগে গিয়ে দাঁড়ায়।
একাধিক স্ত্রী থাকলে সেই আট ভাগের এক বা চার ভাগের এক অংশ কোনো একক স্ত্রী একা পান না, বরং সমহারে সব স্ত্রীর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ চারজন স্ত্রী থাকলে ওই নির্দিষ্ট অংশটি তাদের চারজনের মধ্যে সমান ভাগে বণ্টিত হবে, যেখানে কোনো স্ত্রী কম বা বেশি পাওয়ার সুযোগ থাকে না। আইনগত ও ধর্মীয় এই নিয়মগুলো সঠিকভাবে পালন করার জন্য সম্পত্তি বণ্টনের সময় অভিজ্ঞ আইনজীবী বা কাজীর সাহায্য নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুধুমাত্র মুসলিম আইনই নয়, অন্যান্য ধর্মীয় উত্তরাধিকার আইনেও একাধিক স্ত্রী বা বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়ে নিজস্ব নিয়ম এবং বিধিমালা রয়েছে যা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পারিবারিক সম্পত্তিতে নারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আইনি কাঠামোগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে। সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের ভেতরে কোনো ধরনের আইনি বিরোধ এড়াতে মৃত ব্যক্তির উইল বা আইনি দলিল এবং স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া সবসময়ই বুদ্ধিমানের কাজ।