শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস মনিটরিং হবে সরাসরি, চালু হচ্ছে অ্যাপ ব্যাগ পেয়ে টানাটানি করছিল শিশুটি, হঠাৎ দেখলো ৪ টুকরো মরদেহ আমিশার বাড়িতে ৫ লাখ রুপির গয়না চুরি, গৃহকর্মী গ্রেপ্তার ৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকা পদ্মায় নৌকাডুবি, চারজন ভারতে সাঁতরে উঠলেও নিখোঁজ ৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে রাজনীতিমুক্ত, এমপিও শিক্ষকদের জন্য আসছে আচরণবিধি ভোলায় জিওব্যাগ ধসে নিখোঁজ বিজিবি সদস্যর মরদেহ উদ্ধার বীরগঞ্জে নবনির্মিত মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন॥ ব্যাংকে বন্ধক রাখা জমি বিক্রির অভিযোগ, বিপাকে ৫  পরিবার ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৫০ হাজার ছাড়ালো, মৃত্যু ১৪৩

ব্যাংকে বন্ধক রাখা জমি বিক্রির অভিযোগ, বিপাকে ৫  পরিবার

Reporter Name

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় তথ্য গোপন করে ব্যাংকে বন্ধক রাখা জমি বিক্রির একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। উপজেলার ভান্ডাব মৌজার আরএস ১৬২ ও ২৮৭ নম্বর খতিয়ানের বিএস ৩৩৪ ও ৩৩২ নম্বর দাগের মোট ২৩ শতাংশ জমি নিয়ে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বিগত ২০১৮ ও ২০১৯ সালের দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাঁচজন ক্রেতা এই জমি ক্রয় করেছিলেন। জমি কেনার পর সেখানে কয়েকটি পরিবার স্থায়ীভাবে বসতবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জমি ক্রয়ের সময় সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিল যে সম্পত্তিটি আইনগতভাবে ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা আছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ভালুকা শাখা থেকে আকস্মিক একটি নোটিশ পাওয়ার পর তাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। ওই চিঠিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জমিটি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যার পরেই মূলত পুরো বিষয়টি তাদের নজরে আসে। দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী এই পরিবারগুলোর মধ্যে অন্তত দুজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিও রয়েছেন, যারা এখন নিজেদের মাথাগোঁজার ঠাঁই হারানোর উপক্রম দেখে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

অভিযোগের বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়, জমির আগের মালিক তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সজিব ট্রেডার্স’-এর বিপরীতে অগ্রণী ব্যাংকের ভালুকা শাখা থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। সেই ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে এই তফসিলভুক্ত ২৩ শতাংশ জমি ব্যাংকের নিকট বন্ধক রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় সুদাসলে ব্যাংকের পুঞ্জীভূত পাওনা ১৭ লাখ ৫২ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এই বিশাল অঙ্কের ঋণ পরিশোধের চাপ থেকেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত জমিটি দখলমুক্ত করার নোটিশ জারি করে।

এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে মো. সবুজ মিয়া নামে এক ব্যক্তি ন্যায়বিচার ও নিজেদের বসতভিটা রক্ষার্থে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত জমির মালিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা সম্ভব না হলেও তাঁর ছেলে সজিব মিয়া গণমাধ্যমকে জানান যে, তাঁর বাবা ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ার পর থেকেই দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে পরিবারের সাথে যোগাযোগহীন রয়েছেন। তবে তিনি জমি বিক্রির সত্যতা স্বীকার করে জানান যে তাঁদের পক্ষে বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা আর্থিকভাবে অসম্ভব, তাই তাঁরা সরকারের কাছে ঋণ মওকুফের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, ভুক্তভোগীদের দায়ের করা লিখিত আবেদনটি হাতে পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের তদন্তের পর জানা যাবে কীভাবে এই অসহায় পরিবারগুলো তাদের মাথাগোঁজার ঠাঁই রক্ষা করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page