
রাজনীতি ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রামে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবুর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় মহাসড়কের একাংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বনপাড়া বাজারের বাবু চত্বরে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর উদ্যোগে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের জন্য ব্যস্ত মহাসড়কের পাশেই মঞ্চ নির্মাণ করা হয় এবং সড়কে চেয়ার পেতে বসেন নেতাকর্মীরা। এর ফলে ওই সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। এছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও সভায় বক্তব্য রাখেন। নির্ধারিত অনুষ্ঠান চলাকালে মহাসড়কের একপাশ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ থাকায় অন্যপাশ দিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে গাড়ি চলাচল করে। তীব্র যানজট নিরসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা চালাতে দেখা যায়। এ সময় সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের অনেকেই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এমন জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সানাউল্লাহ নূর বাবু হত্যাকাণ্ডের কঠোর বিচার দাবি করেন। তিনি জানান, প্রয়োজনে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক আদালতেও করা হবে এবং তিনি বেঁচে থাকা অবস্থায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি তিনি তৎকালীন সরকারের আমলে সত্য প্রকাশে গণমাধ্যমের সাহসী ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আলহাজ এম. লুৎফর রহমান জায়গাটি ঐতিহাসিক হওয়ায় সেখানেই সভা করার কথা জানান এবং জনগণের সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
অন্যদিকে, বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ আলমগীর হোসেন দাবি করেন যে মহাসড়ক পুরোপুরি বন্ধ ছিল না এবং এক পাশ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখায় বড় কোনো সমস্যা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বনপাড়া বাজারে বিএনপির একটি মিছিলে নৃশংস হামলার শিকার হয়ে মারা যান সানাউল্লাহ নূর বাবু। এ ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার বিচারকাজ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও দলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।