
শিক্ষা ডেস্ক: এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা অবশেষে কেটে গেছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ পদে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের পথ প্রশস্ত করে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন, যার ফলে এই বিশাল সংখ্যক প্রার্থীর চাকরি পাওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হলো।
আইনজীবীদের সূত্র অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। এর আগে ২০২১ সালের নীতিমালা অনুযায়ী প্রধান বা সহকারী প্রধান পদে আবেদনের জন্য ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে চলতি বছরের মার্চ মাসে সংশোধিত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় এই অভিজ্ঞতার সময়সীমা বাড়িয়ে ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
নীতিমালার এই ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ৪৬ জন শিক্ষক হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট মার্চ মাসের ওই সংশোধনীটি বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন, যা নিয়োগ কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা ডেকে এনেছিল। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আপিল বিভাগে আবেদন করে এবং চেম্বার বিচারপতির আদালতে শুনানির পর হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়।
সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার ১৮ বছরের শর্ত বহাল রয়েছে এবং এর ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ে ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এই ভাইভা পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রিট আবেদনকারী ৪৬ জন শিক্ষকের জন্য সংশ্লিষ্ট পদগুলো সুরক্ষিত রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রধান শিক্ষক পদে ১০ হাজার ২৭৮টি পদ শূন্য ছিল। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ১৫০টি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপার মিলিয়ে ৩ হাজার ১৩১টি শূন্য পদে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। চেম্বার আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় গতিশীল হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা।