
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় রাতের আঁধারে একটি সরকারি শালবাগান থেকে গোপনে গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এই বন ধ্বংসের অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি বড় আলমপুর ইউনিয়নের পত্নীচড়া শালবাগান থেকে কাঠ চুরির এই ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ে। বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারির সময় এই অপকর্মের বিষয়টি উন্মোচিত হয়।
ঘটনার রাতে পত্নীচড়া শালবাগান থেকে গাছ কেটে ভ্যানে তোলার সময় দায়িত্বরত বনপ্রহরী আশরাফুল ইসলাম তা দেখতে পান। তিনি তৎক্ষণাৎ তৎপর হয়ে কাটা গাছগুলো জব্দ করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে পত্নীচড়া উচ্চবিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মারুফ মিয়াসহ আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বনের সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এভাবে নির্বিচারে গাছ কাটতে দেওয়া হলে অচিরেই পুরো শালবাগান অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। অপর্যাপ্ত জনবল থাকার কারণে বন বিভাগের কর্মীরা সব এলাকায় সমানভাবে পাহারা দিতে পারছেন না বলেও স্থানীয়রা উল্লেখ করেন।
অভিযুক্ত মারুফ মিয়া গাছ কাটার কথা স্বীকার করলেও ভিন্ন দাবি তুলেছেন। তার ভাষ্যমতে, যে জায়গা থেকে গাছগুলো কাটা হয়েছে সেটি তার পৈতৃক সম্পত্তি এবং তিনি নিজের লোক দিয়েই গাছ দুটি কেটেছেন। তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে এই দাবি নাকচ করে বলা হয়েছে, সরকারি বনের গাছ কাটার কোনো বৈধতা নেই। পীরগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা জুবাইদুল হাসান জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।