
নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বগুড়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে চালু হওয়া মহিলা বাস সার্ভিস বর্তমানে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি বগুড়া ডিপো থেকে দুটি বাস বিশেষভাবে রূপান্তর করে এই সেবা চালু করা হয়। কিন্তু চালুর পর থেকেই ৪৫ আসনের এই বাসগুলোতে পর্যাপ্ত যাত্রীর দেখা মিলছে না। ফলে প্রতিদিনের যাতায়াত পরিচালনা করতে গিয়ে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষকে প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
উদ্বোধনের পর থেকেই বাস দুটি নির্দিষ্ট দুটি রুটে চলাচল শুরু করে। এর মধ্যে একটি বাস মাটিডালী থেকে শেরপুর এবং অন্যটি বনানী থেকে মোকামতলা রুটে নিয়মিত চলাচল করছে। তবে রুট দুটিতে চলাচলের সময়সূচি নিয়ে শুরু থেকেই নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। সকাল এবং দুপুরের নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়ায় অনেক নারী যাত্রী এই সেবার সুবিধা নিতে পারছেন না। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের নির্দিষ্ট অফিস সময়ের সঙ্গে এই রুটগুলোর সময়সূচির কোনো মিল নেই।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাসের ভেতরে অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা রেখেই গাড়িগুলোকে যাতায়াত করতে হয়। মাঝেমধ্যে কিছু শিক্ষার্থী বাসে উঠলেও চাকরিজীবী কিংবা অন্যান্য পেশার নারীর উপস্থিতি অত্যন্ত নগণ্য। অনেক নারী জানিয়েছেন, সকাল সাতটায় ডিপো থেকে বাস ছেড়ে যাওয়ার কারণে তাদের পক্ষে সময়মতো সেই বাসে ওঠা সম্ভব হয় না। একইভাবে দুপুর ১২টায় মোকামতলা রুটের বাস ছাড়ায় সকালে যাতায়াতকারী নারীরা এই সেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিআরটিসি বগুড়া ডিপো সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো বাস সংস্কার করে গোলাপি রঙে রাঙিয়ে এই নারী বাস সার্ভিস চালু করা হয়। দুটি বাসের জন্য ছয়জন নারী কর্মীসহ মোট সাতজন নিয়োজিত রয়েছেন। প্রতিদিনের জ্বালানি খরচ, কর্মীদের বেতন এবং খাবার ভাতা মিলিয়ে ব্যয় অনেক বেশি হলেও দৈনিক আয় মাত্র দুই হাজার টাকার আশপাশে ঘোরাফেরা করে। অথচ সাধারণ পরিবহনের তুলনায় এই বাসে অর্ধেক বা তার চেয়েও কম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
যাত্রীদের যাতায়াতের বাস্তব চাহিদা বিবেচনা না করেই সময়সূচি নির্ধারণ করায় কাঙ্ক্ষিত সাড়া মিলছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সুবিধাজনক সময় না থাকায় নারীরা বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে অটোরিকশা বা ইজিবাইক ব্যবহার করছেন। এই লোকসান এড়াতে এবং সেবার সুফল নিশ্চিত করতে যাত্রীদের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা জরুরি বলে মত প্রকাশ করেছেন তারা।