
সাবেক স্ত্রী অন্যত্রে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জেরে নিজের কিশোর সন্তানকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক পিতার বিরুদ্ধে। নোয়াখালী জেলার চরজব্বার উপজেলায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, যা স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহত ১৪ বছর বয়সী নাঈম স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল এবং বেশ কিছুদিন ধরে সে নানাবাড়িতে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে আসছিল। দীর্ঘ তিন বছর আগে তার বাবা-মায়ের মধ্যে আইনগত বিচ্ছেদ ঘটেছিল এবং তারপর থেকেই সন্তানটি নানাবাড়িতে বসবাস করত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কয়েকদিন আগে নিহতের মা ফাতেমা আক্তার সুমি পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সাবেক স্ত্রীর এই দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে পারেননি অভিযুক্ত পিতা ইব্রাহিম খলিল এবং তিনি বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। পরিবারের দাবি, সাবেক স্ত্রীর ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য থেকেই তিনি নিজের ঔরসজাত সন্তানকে ঠান্ডা মাথায় পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই ভয়ংকর পরিকল্পনা করেন। গত সোমবার রাতের কোনো এক সময়ে সন্তানকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যান তিনি এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়।
এর কিছুদিন পর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামের একটি স্থানীয় ধানখেতের পাশ থেকে ওই মাদ্রাসাছাত্রের নিথর মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে চরজব্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পিতা ইব্রাহিম খলিলকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার গণমাধ্যমকে জানান যে, অভিযুক্ত বাবাকে আটকের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য বিস্তারিত কারণ উদঘাটন এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। শিশু নাঈমের এই অস্বাভাবিক ও নৃশংস মৃত্যুতে তার পরিবার এবং এলাকজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, সবাই এই নৃশংস অপরাধের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।