
দেশের সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় বেশ কিছু বড় ধরণের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলতে এবং এর পরিধি আরও সম্প্রসারণ করতে সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বর্তমান নিয়মে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় অনেকেই এতে অংশ নিতে দ্বিধায় ছিলেন, যা নতুন সংশোধনের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব হবে।
প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে গ্রাহকদের জীবনসঙ্গী বা স্বামী-স্ত্রীর জন্য সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোনো কারণে মূল গ্রাহক মারা গেলে তার অবর্তমানে তার সঙ্গী যেন নির্বিঘ্নে ও মর্যাদাপূর্ণ আর্থিক সুবিধা ভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই নীতিমালা সাজানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক নিরাপত্তার বিষয়টি আরও সুদৃঢ় হবে বলে নীতিনির্ধারকরা আশা প্রকাশ করছেন।
পেনশন স্কিমের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের কথা মাথায় রেখে এই সংশোধনীগুলো আনা হচ্ছে। বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনা করেই নিয়মের এই আধুনিকায়ন করা হয়েছে যাতে এটি আরও বেশি জনবান্ধব হয়ে ওঠে। দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে একটি টেকসই সামাজিক সুরক্ষার বলয়ের মধ্যে নিয়ে আসাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে এই পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক রূপরেখা প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সংস্কার বাস্তবায়িত হলে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণের হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সাধারণ মানুষ বার্ধক্যে এসে আরও বেশি আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য পাবে।