শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

সিলেটের পুরনো কারাগারের জায়গায় পার্ক নির্মাণ হবে

Reporter Name

সিলেট মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী ও জনবহুল এলাকায় অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারটির জায়গা নিয়ে সম্প্রতি একটি নতুন ও জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক এই স্থানটিকে কেবল বন্দীশালা হিসেবে ব্যবহারের অতীত থেকে বের করে এনে সাধারণ মানুষের চিত্তবিনোদনের উপযোগী একটি আধুনিক ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকা বিশাল এই ভূখণ্ডটি নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক মহলে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গৃহীত এই নতুন প্রকল্পের আওতায় পুরনো কারাগার প্রাঙ্গণের একটি বড় অংশে একটি নান্দনিক ও আকর্ষণীয় পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। এই পার্কটিতে সব বয়সী মানুষের হাটার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সবুজায়ন, বসার স্থান এবং শিশুদের খেলার উপযুক্ত পরিবেশ রাখা হবে বলে জানা গেছে। দ্রুতগতির ও যান্ত্রিক নাগরিক জীবনে হাঁপিয়ে ওঠা সিলেটবাসীর জন্য এই পার্কটি একটি শান্তিময় নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা হিসেবে কাজ করবে। চারপাশের কংক্রিটের জঙ্গলের মাঝে এই পার্কটি নগরীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

এই পার্ক নির্মাণের পাশাপাশি একই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মাণ করা হবে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। দেশের বীর সন্তানদের সাহসিকতা, ত্যাগ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা ঐতিহাসিক দলিল ও নিদর্শন এই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করার সুযোগ পাবে। একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রের পাশাপাশি এমন একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত জাদুঘর নির্মাণের এই উদ্যোগটি সব মহলেই বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

পুরো প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে এই ঐতিহাসিক স্থানটি কীভাবে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রকল্পটির কাজ পুরোপুরি শেষ হলে তা শুধু সিলেটের পর্যটন শিল্পকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশার সফল বাস্তবায়ন ঘটবে। সব মিলিয়ে, পুরনো কারাগারের এই রূপান্তর সিলেট শহরের সামগ্রিক দৃশ্যপটকে বদলে দিতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page