
একটি ছোট্ট শিশুর আকস্মিক প্রয়াণ যেকোনো পরিবারের জন্যই এক অপূরণীয় শূন্যতা নিয়ে আসে। ঘরজুড়ে পড়ে থাকা তার খেলিবাটি, জামাকাপড় আর ব্যবহার্য জিনিসগুলো মা-বাবার মনে প্রতিনিয়ত গভীর বেদনার জন্ম দেয়। সন্তান হারানোর এই শোক কোনোভাবেই ভোলার নয়, যা সবসময় পরিবারের সদস্যদের তাড়িয়ে বেড়ায়। ঘরের প্রতিটি কোণায় যেন সেই চিরচেনা শিশুর কলকাকলি প্রতিধ্বনিত হতে থাকে, যা বাবা-মায়ের বুক আরও বেশি খালি করে দেয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সঠিক সময়ে প্রতিরোধ করতে না পারলে শিশুদের জন্য জীবনঘাতী হয়ে উঠতে পারে। অনেক সময় অসচেতনতা বা অবহেলার কারণে এই সাধারণ রোগটি মারাত্মক রূপ ধারণ করে। অথচ সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হামের মতো বিপজ্জনক রোগ থেকে শিশুদের খুব সহজেই নিরাপদ রাখা সম্ভব।
স্বাস্থ্যখাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা বরাবরই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। দেশের প্রতিটি প্রান্তে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবুও অনেক ক্ষেত্রে অজ্ঞতা বা দূরবর্তী ব্যবধানের কারণে কিছু শিশু প্রয়োজনীয় টিকা থেকে বঞ্চিত রয়ে যায়, যার খেসারত দিতে হয় অকালে প্রাণ দিয়ে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, শিশুর শরীরে জ্বর বা হামের কোনো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা মাত্রই বিলম্ব না করে দ্রুত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিভাবকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে কোনো শিশুই সামান্য প্রতিরোধযোগ্য রোগের কারণে অকালে ঝরে না যায়। সচেতনতার এই বার্তাটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারলে তবেই রোধ করা সম্ভব এমন মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক শিশু মৃত্যুর ঘটনা।