মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

এশিয়া কাপে আরো একবার ভূলুণ্ঠিত ক্রিকেটের সৌজন্য

Reporter Name

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের মঞ্চে ঘটে যাওয়া একটি অনভিপ্রেত ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বের সৌজন্য ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। টুর্নামেন্টের সমাপনী পর্বে পাকিস্তানি খেলোয়াড় ও ম্যাচ প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটারদের করমর্দন না করার ঘটনাটি মাঠে উপস্থিত দর্শক ও ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এড়ায়নি। এর আগে ট্রফি গ্রহণ না করার মতো ঘটনাও টুর্নামেন্টটির পরিবেশকে কিছুটা উত্তপ্ত করেছিল, যা ঐতিহ্যবাহী এই খেলার ভদ্রজনসুলভ ইমেজকে ম্লান করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

< বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও পাকিস্তান সীমান্তের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক বৈরিতা মাঠের খেলায় সরাসরি প্রভাব ফেলে আসছে। এর আগে নির্দিষ্ট একটি মে মাসে দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রথাগত সৌজন্য বিনিময় থেকে বিরত থাকার নীতি বজায় রেখে চলেছেন। মাঠের বাইরের এই ভূরাজনৈতিক শীতলতা যে এখন সরাসরি সবুজ গালিচায় খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে, তা সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হতো ক্রিকেট খেলাকে। দুই দেশের সাধারণ মানুষের আবেগ এবং ক্রীড়াপ্রেমকে এক সুতোয় বাঁধার ক্ষেত্রে এই ধরনের দ্বিপক্ষীয় লড়াইগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মাঠের সেই স্বতঃস্ফূর্ত সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দিন দিন যেন হারিয়ে যেতে বসেছে, যা নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমী ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মনে গভীর হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

ক্রীড়া কূটনীতির এই অবক্ষয় চলতে থাকলে তা ভবিষ্যতে সামগ্রিক ক্রিকেটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে খেলার অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য ও স্পোর্টসম্যানশিপ বজায় রাখা না গেলে আগামী দিনে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে বৈরিতা আরও বাড়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তাই ঐতিহ্যবাহী এই খেলায় পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সৌজন্য ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বোর্ড এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page