মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

সাপ ডোবানো ‘স্নেক ওয়াইন’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে কেন এত জনপ্রিয়

Reporter Name

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর স্থানীয় বাজার কিংবা সরাইখানায় গেলে নজর কাড়ে এক অদ্ভুত পানীয়, যা ‘স্নেক ওয়াইন’ নামে পরিচিত। স্বচ্ছ কাঁচের বোতলের ভেতরে সাপের অস্তিত্ব দেখে যে কারও গা শিউরে উঠতে পারে, কারণ মদের বোতলে একটি আস্ত মৃত সাপ পেঁচানো অবস্থায় থাকে। মূলত ভাইপারজাতীয় সাপ সংরক্ষণের মাধ্যমে এই বিশেষ পানীয় প্রস্তুত করা হয়, যা এই অঞ্চলের মানুষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বেশ সমাদৃত। ঐতিহ্যবাহী এই পানীয়টি কেবল একটি বিশেষ পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি স্থানীয় জনজীবন এবং সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ মদ তৈরির প্রচলন শুরু হয়েছিল দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে চীনের প্রাচীন ঝু রাজবংশের আমলে। পরবর্তীতে এর জনপ্রিয়তা চীনের সীমানা ছাড়িয়ে ভিয়েতনাম, লাওস এবং থাইল্যান্ডের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে চীনা রাজবংশের চিকিৎসালয়ে ওষুধ বা প্রতিষেধক হিসেবে এর ব্যবহার শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি সাধারণ মানুষের পানীয় হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব কিংবা সাধারণ রেস্তোরাঁয় এটি বেশ আগ্রহ নিয়ে পরিবেশন করা হয়।

বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পানীয় প্রস্তুত করা হয়, যেখানে রাইস ওয়াইন বা উচ্চমানের শস্যদানা থেকে তৈরি মদের মধ্যে সাপ ডুবিয়ে রাখা হয়। অনেক সময় মদের স্বাদ ও গুণগত মান বাড়াতে এর সঙ্গে বিছা, জিনসেং কিংবা নানা ধরনের স্থানীয় লতাপাতাও যুক্ত করা হয়ে থাকে। মদ তৈরির মূল উপাদান ইথানল সাপের শরীরের ক্ষতিকর বিষাক্ত প্রোটিনগুলোকে ভেঙে ফেলে, ফলে এই পানীয় পানে কোনো ধরনের শারীরিক ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে না। ক্রেতাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আস্ত সাপের পাশাপাশি অনেক সময় ছোট গ্লাসে সাপের টুকরো ও রক্ত মিশিয়েও এটি পরিবেশন করা হয়।

ঐতিহ্যগতভাবে চীনা ওষুধবিজ্ঞানে সাপকে শরীর উষ্ণকারী এবং আর্দ্রতা দূরকারী উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বাতের ব্যথা কমানো, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দূর করা এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এই পানীয় অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন উপকথায় এই পানীয়কে একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক টনিক হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত উপকারের পাশাপাশি এই ওয়াইনকে স্থানীয় সমাজে আভিজাত্য ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়।

চিকিৎসাগত ব্যবহার ছাড়াও অতিথি আপ্যায়নে এই বিশেষ পানীয় ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে, যা অতিথির প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। এমনকি বিভিন্ন দেশ থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরাও স্মৃতিচিহ্ন বা স্যুভেনির হিসেবে ছোট আকৃতির এসব মদের বোতল কিনে নিয়ে যান। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত নানা সংস্কার, বিশ্বাস এবং সংস্কৃতির হাত ধরে এই অভিনব পানীয় তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। সাপের উপস্থিতি সংবলিত এই মদের বাজার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে বরাবরই এক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page