রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :

ফেসবুকে মৃত্যুর তারিখ লিখে ‘ছাদ থেকে লাফ’, সংকটাপন্ন অমিত

Reporter Name

রাজধানীর মালিবাগে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম অমিত ঘোষ এবং তার বয়স ষোলো বছর। তিনি কলেজটির দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। নির্দিষ্ট কোনো দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে শ্যামলীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাকে সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে অর্থাৎ আইসিইউতে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাটির পর থেকেই এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কিছু, তা নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের একটি বড় অংশ দাবি করছেন যে ওই শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছেন। তাদের এই দাবির পেছনে মূল কারণ হিসেবে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক প্রোফাইলের তথ্যকে সামনে আনা হচ্ছে। অমিতের ফেসবুক বায়োতে তার জন্মতারিখের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট মৃত্যুর তারিখও উল্লেখ করা ছিল, যা দেখে অনেকেই একে পূর্বপরিকল্পিত আত্মহত্যার প্রচেষ্টা বলে সন্দেহ করছেন। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিভাবকও দাবি করেছেন যে তাকে নিজ ইচ্ছায় ছাদ থেকে নিচে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনার পেছনে ভিন্ন আরেকটি দিক তুলে ধরেছেন অভিভাবকদের একাংশ। তাদের ভাষ্যমতে, যে ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে সেটি একটি নির্মাণাধীন ভবন। ওই ভবনের শীর্ষ তলাটি পুরোপুরি খোলা অবস্থায় ছিল এবং সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিষেধ থাকার কথা। ফলে এটি কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন। এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে অমিত কোনো এক ধরনের অনলাইন গেমে আসক্ত ছিল এবং তার ব্যাগ থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে শিক্ষকরা সরাসরি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী না হওয়ায় এই তথ্যগুলো মূলত পারিপার্শ্বিক শোনা কথার ওপর ভিত্তি করেই ছড়াচ্ছে।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে যে আহতের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং তার মুখমণ্ডল ও মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। ঘটনার পর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং সংবাদমাধ্যম থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অধ্যক্ষ কিংবা উপাধ্যক্ষ কেউই ফোন রিসিভ করেননি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকেও গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। পুরো বিষয়টি ঘিরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা দূর করতে এবং এর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page