
অর্থনীতি ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের লেনদেন শুরুর দিকে এই মূল্যপতন লক্ষ্য করা যায়। মূলত বাজারে তেলের জোগান বাড়াতে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকদের নেওয়া জরুরি পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি সামান্য কমে ১০৫ ডলারের বেশি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমে ৯৭ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জরুরি মজুত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল ও তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত মার্চ মাসে যে তেল ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অবশিষ্ট অংশও এখন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি পরিবহন ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে মার্কিন প্রশাসন নতুন কিছু পদক্ষেপের কথা ভাবছে। বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে থাকা রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহনে যুক্ত কিছু সামুদ্রিক জাহাজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যাওয়া জাহাজ ভাড়া কমানোই এই সম্ভাব্য উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা এবং সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের লড়াই নতুন করে শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। ওই অঞ্চলের সংঘাত অব্যাহত থাকায় জ্বালানি সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি রয়েছে, যা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা।