
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের দুর্বল পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ইতোমধ্যে প্রায় ষোলো হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এত বিশাল জনবল কাঠামো বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকটিতে সম্প্রতি বিভিন্ন পদে নতুন করে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিনিয়র ও জুনিয়র অফিসার পদে অন্য ব্যাংক থেকে একাধিক ব্যক্তিকে আকর্ষণীয় বেতনে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা বিভাগসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন পদেও নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও জনবল নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিপুল সংখ্যক কর্মী ইতিমধ্যে বহাল থাকায় নতুন করে নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ ব্যাংকগুলোকে একত্রিত করার মূল উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান জনবল ও অবকাঠামো দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করে পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।
নতুন করে জনবল বাড়ানো হলেও ব্যাংকটির সার্বিক গ্রাহকসেবা এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাধারণ আমানতকারীদের অনেকেই তাঁদের জমা রাখা অর্থ সময়মতো তুলতে না পেরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মেয়াদি আমানতের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো ধরনের মুনাফা ছাড়াই এক্সিট সুবিধা গ্রহণ করার সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তাবে সাধারণ গ্রাহকরা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে মূল টাকা এককালীন তুলে নিতে গেলে সেটিকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে ধরে নেওয়ায় গ্রাহকরা প্রাপ্য মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ধরনের নানা অনিয়ম ও হয়রানির কারণে ব্যাংকটির ওপর গ্রাহকদের আস্থার সংকট কাটছে না।
একীভূতকরণের পর ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় বড় একটি সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনবৈষম্য। একই পদমর্যাদা, গ্রেড ও সমমানের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও অতীতে কোন ব্যাংকে চাকরি করতেন তার ওপর ভিত্তি করে বেতন-ভাতায় আকাশচুম্রি পার্থক্য রয়েছে। জুনিয়র কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে এই ব্যবধান পনেরো হাজার থেকে সত্তর হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে ভুক্তভোগী কর্মীরা জানিয়েছেন। এই বৈষম্য দূর করতে দ্রুত একটি অভিন্ন সার্ভিস রুলস, সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাস ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতনকাঠামো চালুর জোরালো দাবি জানিয়েছেন কর্মীরা। কর্মীদের মধ্যে এই ধরনের অসন্তোষ ও বেতনগত ব্যবধান বজায় থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গ্রাহক ভোগান্তি এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনাগুলোর নানাবিধ দুর্বলতার কারণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা শোচনীয় হয়েছিল, যা উত্তরণে বাইরে থেকে হাতে গোনা কয়েকজন দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, নতুন নিয়োগের চেয়ে বর্তমান জনবলকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে ব্যাংক পুনর্গঠনকেই তাঁরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নতুন নিয়োগের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদ অভ্যন্তরীণ নীতিমালার আওতায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে একই প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন বেতনকাঠামো থাকলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয় এবং কোনো ধরনের বৈষম্য দেখতে চায় না নিয়ন্ত্রক সংস্থা।