সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা

Reporter Name

শিক্ষা ডেস্ক: দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই উপাচার্য পরিবর্তনের প্রবণতা চরম আকার ধারণ করেছে, যার ফলে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্থিরতা। সাধারণত চার বছরের মেয়াদে প্রধান নির্বাহী নিয়োগের নিয়ম থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনা ও নানা কৌশলগত কারণে অনেককেই নির্ধারিত সময় কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়া আরও জোরালো হওয়ায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা চুয়েটসহ দেশের একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যখন-তখন শীর্ষ পদ পরিবর্তনের এই সংস্কৃতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। শিক্ষাবিদদের মতে, দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে মেধা এবং দক্ষতাকে প্রাধান্য না দিলে উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চলমান এই সঙ্কটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে চুয়েটে, যেখানে মাত্র ৫৭ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের জেরে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছে। গত জুলাই মাসে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম চার বছরের জন্য নিয়োগ পেলেও কিছুদিন পর তাকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলমকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল ও নিজেদের ক্যাম্পাস থেকেই ভিসি নিয়োগের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলন শুরু করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন উপাচার্য অনলাইনে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলেও আন্দোলনের মুখে এখনো ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। আন্দোলনকারীদের এই অনড় অবস্থানের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ মুখ থুবড়ে পড়েছে।

শুধু চুয়েট নয়, দেশের অন্যান্য পাবলিক হাসপাতালেও ভিসি পরিবর্তনের জেরে বিভিন্ন সময়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগপত্রে সই করানোর ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক অনুসারীদের চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের তৈরি হওয়া সংস্কারের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার মৌলিক পরিবেশকে কলঙ্কিত করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্রশাসনিক পদগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজনেরা বলছেন, উপাচার্য নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির একাডেমিক উৎকর্ষ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ মনে করেন, জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল মেধার মূল্যায়ন, যা বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উপেক্ষিত হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব নেওয়ার পর উপাচার্যদের নিজেদের কাজের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে মনোযোগী হতে হবে এবং সরকার পরিবর্তনের পর দলীয়করণের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষাখাতের এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়কে আরও বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষাবিদেরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page